– উফফ!! হা হা!! থাম রে পাগল। পেট ফেটে মরে যাব এবার!
– আরে আমি কী এমন বললাম!! 😅
– প্লিজ থামা তোর পিজে!
– বল তো…
– আবার একটা? আচ্ছা বল.. উফফ! ব্যাথা হয়ে গেল পাঁজরে।
– হ্যাঁ লাস্ট এটা!
– বেশ!
– ধর কোনো Bar সেখানে ঢোকার জন্য আলাদা Entrance fee নেয়। তাহলে সেটাকে কী বলা হবে?
-… জানিনা! কী বলা হবে?
– BarFee!! (Barfi)
– এই এটা কিউট! যাতা তুই পুরো! 😅
– Thank you. চল। ফিরবি তো!
– হ্যাঁ। চল ফিরি।
– ওলা বুক করি?
– কর।
(একটু পর)
– ৮ মিনিটে আসছে।
– আচ্ছা।
– শোন না..
– I love you.
– (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) I love you too.
– এই জানিস…
– Do you think I deserve to be happy?
– অ্যাঁ! এ আবার কীরকম প্রশ্ন!
– বল না শুভ্র! তোর কী মনে হয়?
– কী হয়েছে তোর?
– উত্তর দিবি না তো!
– Of course you deserve to be happy! Everyone does.
– কেন?
– গাড়ি কতদূরে?
– জানিনা আমি। বল তুই আগে…
– (দীর্ঘশ্বাস)
– দিতি!
– হ্যাঁ।
– বল না..
– মা আমার জন্য ছেলে দেখতে চাইছিল। আমি হ্যাঁ বলেছি।
– Wait! Wait! What?? মানে??
– হুম। আচ্ছা, আমি ঘরে থাকাকালীন তুই ফোন ব্যবহার করিস না কেন কখনও?
– কী? এই কোথায় চলে যাচ্ছিস মাঝে মাঝে! তুই কাকিমা কে ছেলে দেখতে বলেছিস মানে? তাহলে আমি কী করছি? আমরা কী করছি!
– নীরা জানে তোর আমার সম্পর্কের কথা?
– আবার নীরাকে কেন টানছিস? ও কী করল আবার!
– আমাদের সম্পর্ক হয়েছে ১ বছর হয়ে গেল! অথচ তার ১ বছর আগে ব্রেক আপ হওয়া তোর এক্স এখনও জানেনা তুই একটা সম্পর্কে রয়েছিস! অথচ কথা নিয়মিত হয় তোদের!
– আরেহ ও তো বোঝে কিছু একটা রয়েছে আমার আর তোর!
– কিছু একটা! হুম। এই গাড়ি কোথায় দ্যাখ!
– ধুর! নিকুচি করেছে গাড়ি! তুই কাকিমাকে ছেলে দেখতে কেন বলেছিস?
– কারন আমি আর পারছিলাম না রে। অনেকদিন হল! তুই আমার সাথে কতটা ভবিষ্যত দেখিস আমি জানি না। কিন্তু আমি দেখি.. মানে দেখতাম।
– কবে বলেছিস কাকিমা কে?
– তুই কিন্তু আমার প্রথম প্রশ্নের উত্তরই দিস নি এখনও!
– কী প্রশ্ন?
– তুই আমার সামনে ফোন ব্যবহার করতে ভয় পাস কেন? আমি তো মেসেজ দেখি না কখনও তোর! বা দেখতেও চাইনি কখনও!
– কে বলেছে ভয় পাই? আমি এরকমই!
– ২ মাস হল!
– কী?
– মাকে বলেছি ছেলে দেখতে! ২ মাস হল!
– ২ মাস!!!
– তোর বন্ধুরা জানে?
– কী?
– এই তোর সম্পর্কটার কথা? আমার সাথে!
– মোটামুটি একটা আইডিয়া তো করে নিয়েছে যে কিছু একটা আছে!
– কিছু একটা!
– তুই… তুই ২ মাস আগে থেকে…
– তুই এই ২ মাসে আমায় কতগুলো মিথ্যে বলেছিস তুই জানিস?
– মানে? মিথ্যে! আমি!!
– হ্যাঁ। মিথ্যে। কতগুলো মিথ্যে বলেছিস শুনবি!
– বল শুনি।
– ২০শে আগস্ট থেকে শুরু করি রাত ১২ টা ৩. তারপর ২৩শে আগস্ট। তারপর ঝামেলা হল। তারপর ৩রা সেপ্টেম্বর, ৪ই সেপ্টেম্বর, ৯ই সেপ্টেম্বর, ১১ই সেপ্টেম্বর। তারপর ঝামেলা। ক’দিন সব ঠিক। তারপর ২৪শে সেপ্টেম্বর আবার। ২৬, ২৯,৷ তারপর…
– দাঁড়া দাঁড়া!! যা হোক পর পর ডেট বলে গেলেই হল নাকি?
– তুই একবার তোর ফোনটা আমার হাতে দে। আর বল কোন তারিখের মিথ্যেটা নিয়ে তোর কনফিউশন আছে! আমি দেখিয়ে দিচ্ছি তোকে!
– আমি…
– জানি পারবিনা। গাড়িটা কোথায় দেখ…
– তাহলে তুই ভালো নেই তাই তো?
– ভীষন ভালো থাকি, যতক্ষন তোর সাথে থাকি। কিন্তু তারপরেই ডিপ্রেশন গ্রাস করে জানিস! আর একটা কথা…
– কী?
– তুই আমাকে ভালোবাসিস আমি জানি। কিন্তু It’s just not enough! তাহলে তোর এক্স এর সাথে সিনেমা দেখতে যাওয়া, নাটক দেখতে যাওয়া এগুলো এতদিন পর বন্ধ হত হয়ত। আমি বারন তো করিনা তোকে! করা উচিতও না। কিন্তু তুই যদি আমার কষ্ট হচ্ছে দেখেও একই জিনিস করতে থাকিস আমি কিছু বলিনা বলে.. তাহলে…
(ফোন আসে শুভ্রর)
– হ্যালো!
– দাদা কোথায় আছেন? আমি লোকেশনে!
– দাঁড়ান। আসছি।

(ফোন রেখে)

– গাড়ি এসে গেছে!
– ওহ! চল।
– তুই ২ মাস আগে কাকিমাকে বলেছিস… একবার আমায় বলতে পারতিস! এভাবে আমাকে..
– বিশ্বাস কর আমি মনে প্রানে চাইছিলাম, তুই হয়ত একটু পাল্টাবি শুভ্র। ভেবেছিলাম হয়ত মিথ্যে বলবিনা আমাকে আর। ভেবেছিলাম আমাকে Acknowledge করবি। বন্ধুদের আমার কথা বলবি। বিশেষত এক্সকে। কিংবা হয়ত ওর সাথে একটু ডিসট্যান্স মেইন্টেইন করবি।
– করি তো! এখন তো আর অত কথা…
– অত কথা জানিনা রে। যতটা হয় তার চেয়ে আরও অনেকটা কম বলিস আমাকে। সব বুঝতে পারতাম বিশ্বাস কর। সব। আবার এটাও বুঝি তোরও আমার প্রতি কতটা টান রয়েছে।
– তাহলে কেন চলে যাচ্ছিস?
– ওই যে বললাম, It’s not enough. অপশন হয়ে আছি তোর জীবনে। এটাই চাই না!
– ছেলে পেয়েছিস?
– কার ছেলে?
– কাকিমা যে…
– ওহ হ্যাঁ। কথা বলিনি। একজন কে ভালো লেগেছে। দেখি। কথা বলব।
– চল ওঠ।
– তুই যা। আমি পরে যাচ্ছি।
– তুই এখন একা একা কী করবি এখানে?
– একটু একা থাকতে ইচ্ছে করছে। আমার মনে হয় তোরও একা থাকাটা প্রয়োজন এই মুহুর্তে।
– বেশ। তাহলে কী আর কথা হবে না?
– হবে তো! তবে এই এক্সটার লাইফে আর একটা মানুষ থাকলে বা তোর লাইফে আর কেউ থাকলে একসাথে সিনেমা দেখতে যাওয়া বা খেতে যাওয়া হবে না! আমি নীরা হতে পারব না!
– বেশ!
– ভালো থাকিস!
– চেষ্টা করব। তুইও!
– হুম। আর একটা কথা শুভ্র..
– কী?
– খেয়াল রাখিস! পরের সম্পর্কটা যেন কিছু একটা’ না হয়! Everyone deserves better than ‘কিছু একটা’!

কিছু একটা

Arnab Mondal


হিজিবিজি লেখা আর বিরিয়ানি নিয়ে Phd করছি আর আকাশবাণী কলকাতায় নিজের কন্ঠস্বর ভাড়া দিয়ে সংসার চালাচ্ছি।


Post navigation


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করবেন না দাদা/দিদি