শারদ্বতর এখন একটা অদ্ভুত নেশা হয়েছে। ফোনে গেম খেলা। কি একটা ফুটবল গেম নিয়ে বসে থাকে সারাদিন। হাতে কেস নেই কাজেই সময় রয়েছে অঢেল। এমনিতেই তো বেশীরভাগ সময় কথা বললে উত্তর দিত না। এখন আরও দেয় না। সারাক্ষন ফোনের স্ক্রীনে বুঁদ হয়ে থাকে। এদিকে পুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। সেদিকে কোনো হুঁশ নেই ওর। আমি রিসেন্টলি আমার ব্লগ এ একটা প্রিমিয়াম ফিচার অন করেছি। সেখানে শুধুমাত্র শারদ্বতর গল্পগুলোই প্রিমিয়াম গল্প হিসেবে থাকে। অর্থাৎ সামান্য কিছু টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করে মানুষকে ওর গল্প পড়তে হয়। এবং খুব অবাক করা ব্যাপার হল বেশ অনেক লোকই কিন্তু ওর কথা জানতে আগ্রহী।

“সেটাই স্বাভাবিক নয় কি?”

শারদ্বতর কথায় টাইপিং থামলো আমার।

“মানে?” আমি জিজ্ঞেস করলাম।

শারদ্বত বলল, “মানে আমার কথা লোকে জানতে আগ্রহী হবে এটা অবাক করা ব্যাপার কেন হতে যাবে? এতো অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার!”

আমি হেসে বললাম, “এত অহংকার কিন্তু ভালো নয়। জানো তো অহংকারই পতনের মূল কারন!”

–      কে বলে?

–      মানে? এটাতো সবাই জানে!

–      সবাই জানে তো কী হয়েছে? সবাই জানলেই কী সেটা ঠিক বলে ধরে নিতে হবে?

–      সে… আমি জানিনা… ছোটোবেলা থেকে শুনে আসছি। অহংকার করলেই নাকি পতন অনিবার্য!

এই তর্ক কতক্ষন চলত জানিনা। কিন্তু আমাদের তর্ক থামানোর জন্যেই হয়তো এই আশ্বিনের শারদ প্রাতে আমাদের চিরপরিচিত কলিং বেল টা বেজে উঠল। গিয়ে দরজা খুললাম দেখলাম একজন ভদ্রলোক তার বিশালাকায় চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে পান চিবোচ্ছেন! বললাম, “কাকে চাই?”

ভদ্রলোক বললেন, “শারদ্বত হাজরা কি আপনি?”

পেছন থেকে শারদ্বত বলল, “নাহ। ওর নাম অনিরুদ্ধ সেন। আপনার নাম কী?”

ভদ্রলোক বললেন, “ভেতরে আসতে পারি?”

শারদ্বত আবার বলল, “নিশ্চয় পারেন। কিন্তু তার আগে সিঁড়ির কোনে যে ডাস্টবিন আছে সেখানে মুখের পান টা ফেলে আসুন।”

আমাকে এবার বলতেই হল, “ওর কথায় কান দেবেন না। আপনি আসুন।”

ভদ্রলোক ভেতরে এসে বসলেন সোফায়।

শারদ্বত বলল, “বলুন, কীভাবে আমার সময় নষ্ট করতে পারি?”

আমি শারদ্বতর দিকে কটমট করে তাকালাম। ভদ্রলোক পোটেনশিয়াল ক্লায়েন্ট। পুজোর ঠিক আগে এখন ওর খুব হাতটান যাচ্ছে। জামাকাপড়ও কিছু কেনেনি। তা এই সময় খারাপ ব্যবহারটা কি না করলেই নয়?

ভদ্রলোক একটু গলা ঝেড়ে এদিক ওদিক তাকাতে লাগলেন। শারদ্বত বলল, “সিঁড়ির কাছে। ডাস্টবিন আছে। ফেলে আসুন!”

বুঝলাম ভদ্রলোক পানের পিক টা ফেলার জায়গা খুঁজছিলেন। আমি আর কিছু বললাম না। ভদ্রলোক নিজেই দরজা খুলে বেরিয়ে ফেলে এলেন পানটা

তারপর শারদ্বতর দিকে তাকিয়ে বললেন, “আমি আসলে একটা কেসের ব্যাপারে আপনার কাছে এসেছি।”

শারদ্বত বলল, “হ্যাঁ, ভারতনাট্যম যে শিখতে আসেন নি সেটা আপনাকে দেখেই বুঝেছি। কেস টা কী সেটা বলুন।”

ভদ্রলোক বললেন, “আমার নাম বরুন সিনহা। আমি একজন অ্যাড ফিল্ম এর প্রোডিউসার।”

“মানে বিজ্ঞাপন বানান?” শারদ্বত জিজ্ঞেস করল

–      হ্যাঁ মানে আমাদের কাছে বিভিন্ন কোম্পানী আসে। কেউ কনসেপ্ট নিয়ে আসে আবার কেউ বলে আমাদেরই কনসেপ্ট দিতে। সেই কনসেপ্ট এর ওপর বিজ্ঞাপন তৈরী হয়। তারপর টিভিতে যায়। আর… আহ!

কথা বলতে বলতেই বরুন বাবু একবার গালে হাত দিয়ে ব্যাথায় কাতরে উঠলেন।

জিজ্ঞেস করলাম, “কী হল?”

শারদ্বত বলল, “আসলে পান খেয়ে খেয়ে দাঁতের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছেন। সেটাই বোধহয় জানান দিল দাঁত একবার।”

বরুন বাবু বললেন, “হ্যাঁ আসলে এই নেশাটা কিছুতেই ছাড়তে পারছিনা। আগে খইনি খেতাম। সেটা ছেড়ে দিয়েছি এখন। কিন্তু এটা… দাঁতের ডাক্তারের কাছেও যেতে হয় তাই প্রত্যেক মাসে। উনি RCT করছেন, কি সব ক্রাউন না কি পরাচ্ছেন…

শারদ্বত মাঝপথে ওঁকে থামিয়ে বলল, “ঠিক আছে। নট ইন্টারেস্টেড। তারপর বলুন।”

বরুন বাবু বললেন, “হ্যাঁ। তো আসলে যেটা হচ্ছে আমাদের কনসেপ্ট চুরি হচ্ছে!”

“কীরকম?” শারদ্বত এবার নড়ে চড়ে বসল।

– মানে ধরুন আমরা নিজেরা মিটিং করছি কোনো একটা ক্লায়েন্ট এর প্রোডাক্ট নিয়ে। সব ফাইনালাইজ হয়ে গেল। কনসেপ্ট বাজেট ইত্যাদি। তারপরের দিন ক্লায়েন্টের আসার কথা। আমাদের আইডিয়া পিচ করার কথা। হঠাৎ ক্লায়েন্ট আমাদের ফোন করে জানালো যে ওঁরা আর আসছেন না। অন্য কোম্পানীর সাথে কথা ফাইনাল হয়ে গেছে।

– তাতে কী করে জানলেন চুরি হয়েছে? এটা তো জাস্ট ক্লায়েন্ট চুরি। কনসেপ্ট চুরি তো নয়।

– আরে শুনুন না তারপর। এর কয়েকদিন পর দেখছি টিভিতে ওই ক্লায়েন্ট এর অ্যাড। হুবহু আমাদের কনসেপ্টের ওপর।

– সে বোধহয় কনসেপ্ট মিলে গেছে। এরকম ফেসবুকে হামেশাই হয়। এই তো অনিরুদ্ধর সাথে স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের কনসেপ্ট গুলো মাঝে মাঝে মিলে যায়।

আমি আবার কটমট করে তাকালাম শারদ্বতর দিকে।

– সেটা না হয় একবার শারদ্বত বাবু। তাই বলে বার বার?

– কতবার হয়েছে এই ব্যাপার টা?

– ৬ বার।

– সেম প্যাটার্ন?

– একদম সেম প্যাটার্ন। ক্লায়েন্টের সাথে প্রিলিমিনারি আলোচনা হয়েছে। আমরা নিজেরা মিটিং করছি। ফাইনাল করছি। ক্লায়েন্ট কে জানানোর আগেই ক্লায়েন্ট ফোন করে জানাচ্ছেন অন্য জায়গায় ফাইনাল হয়ে গেছে। আর আসবেন না। বোঝাই যাচ্ছে আমার টিমের মধ্যেই সমস্যা রয়েছে। কেউ একটা ফাঁস করছে সব টা!

– আচ্ছা অ্যাডগুলো কীসের আসে নরম্যালি?

– বিভিন্ন রকমেরই আসে। অটোমোবাইল থেকে শুরু করে ন্যানো চিপ সবই আসে!

আমি বললাম, “ন্যানো চিপ মানে? ন্যানো সিম?”

বরুন বাবু বললেন, “না মানে ধরুন হাতের তালুর মধ্যে ছোট্টো একটা চিপ যেটা দিয়ে গান শোনা যায় বক্সে! কিংবা আরও অনেক কিছুই করা যায়।”

শারদ্বত বলল, “এই যে আপনার হাত থেকে অ্যাড গুলো চলে যাচ্ছে এগুলো এরপর যারা বানাচ্ছে তাদের কি সবাই আলাদা কোম্পানী? নাকি একজনের কাছেই যাচ্ছে?”

বরুন বাবু বললেন, “একজনই। অরুন সিনহা নামে একজনের কোম্পানী এই অ্যাড গুলো বানাচ্ছে আমাদের কনসেপ্ট চুরি করে!”

“ইনিও সিনহা?” আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম।

বরুন বাবু একটু থেমে তারপর বললেন, “হ্যাঁ। আমার নিজের ভাই।”

শারদ্বত হেসে বলল, “মজার ব্যাপার তো! আপনারই ভাই আপনার কনসেপ্ট চুরি করে অ্যাড ফিল্ম বানাচ্ছে?”

উফফ! এই ছেলেটা সভ্য সমাজের উপযোগী হবেনা কখনও।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি ভাই কে কনফ্রন্ট করেন নি?”

বরুন বাবু বললেন, “নাহ। ওর সাথে কোনো যোগাযোগ নেই আমার। আলাদা থাকে ও।”

শারদ্বত বলল, “সুতরাং এই কেসের নাটের গুরু কে তাকে আমরা পেয়ে গেলাম। এবার যেটা দরকার সেটা হল আপনার কোম্পানী থেকে কান্ডটা ঘটাচ্ছে কে তাকে খুঁজে বার করতে হবে!”

বরুন বাবু বললেন, “হ্যাঁ। আপনার ফিস টা…”

শারদ্বত বলল, “ও হ্যাঁ। আমি শুরুতে ১০ হাজার নেবো। কেস সল্ভ হওয়ার পর আরও ১০ হাজার।”

বরুন বাবু কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলেন শারদ্বতর দিকে। তারপর বললেন, “একটু বেশী হয়ে যাচ্ছে না রেট টা?”

শারদ্বত বলল, “বেশী তো বটেই। কম টাকার মধ্যে কাজ সারার হলে আপনি তো পুলিশের কাছে যেতেন। আমার কাছে তো আসতেন না। তাই না?”

বরুন বাবু আর কথা না বাড়িয়ে পাঁচটা কড়কড়ে ২০০০ টাকার নোট বের করে শারদ্বতর হাতে দিল। শারদ্বত একটা রিসিপ্ট দিয়ে দিল ভদ্রলোক কে। তারপর বলল, “রিসিপ্টে যে ঠিকানা আছে, সেটায় আপনার বাড়ির ঠিকানা, ভাই এর ঠিকানা এবং আপনার অফিসের ঠিকানা গুলো Whatsapp করে দেবেন।”

বরুন বাবু সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে নিজের বিশালাকায় দেহ টা নিয়ে বেরিয়ে গেলেন আমাদের ফ্ল্যাট থেকে!

“কি বুঝছো?”

শারদ্বত ট্যাক্সিতে বসে গেম খেলছিল। আমাদের গাড়ি চলেছে বরুন বাবুর অফিসের দিকে। ওঁর অফিস সার্দান অ্যাভিনিউ তে। খেলা না থামিয়েই শারদ্বত উত্তর দিল, “কিচ্ছু বুঝছি না!”

আমি বললাম, “আরে এই কেসটার ব্যাপারে কি বুঝছো?”

শারদ্বত বলল, “এগুলো কি তোমার গল্পের ওয়ার্ড কাউন্ট বাড়ায়?”

–      মানে?

–      মানে এরকম বাজে প্রশ্ন করো কেন? এখনো কেসের জায়গাতেই পৌঁছোলাম না, বুঝবো টা কী?

আমি চুপ করে গেলাম। নির্ঘাৎ ওই ফুটবলের গেমটায় হারছে সেই জন্যে এরকম মুড অফ করে রয়েছে!

আধঘন্টা পর আমরা পৌঁছোলাম বরুন সিনহার অফিস বিল্ডিং এর সামনে। বিল্ডিং এর পাশেই দেখলাম একটা পুজোর প্যান্ডেল হচ্ছে। ঠাকুর তৈরী হচ্ছে ওখানেই। কলকাতার বোধহয় এটাই মাহাত্ম্য। যে সারাজীবনে কখনও কলকাতার পুজো দেখে নি সে যে কত কী মিস করেছে সে নিজেও হয়তো জানে না। শারদ্বতর অবশ্য ওদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। যেখানে বরুন বাবুর অফিস সেই বিল্ডিং টার নাম ‘মনিহারা’।

শারদ্বত দেখে বলল, “বাহ! বেশ সুন্দর নাম তো!”

এই বিল্ডিং এ বোধহয় অনেকগুলো অফিস রয়েছে। আমরা চুপচাপ লিফটে গিয়ে ৬ তলায় উঠে গেলাম। বরুন বাবুর কোম্পানীর নাম Galaxy Studios Private Limited. বুঝলাম এখানে সব রকমের স্টুডিওই রয়েছে।

ভেতরে যেতেই একজন মহিলা এগিয়ে এসে হাসি মুখে আমাদের ওয়েলকাম করলেন। বরুন বাবুর রুমে যাওয়ার পর দেখলাম উনি কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে কিছু কাজ করছেন। আমায় দেখে উঠে দাঁড়ালেন।

শারদ্বত ঐ মহিলার সামনেই বরুন বাবু কে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা ইনি কি আপনার গার্লফ্রেন্ড?”

বরুন বাবু মুচকি হেসে বললেন, “কেন বলুন তো?”

শারদ্বত বলল, “দু’জনেই সদ্য স্নান করেছেন চুল ভেজা দেখে মনে হচ্ছে। আর দু’জনের গা থেকেই Wild Stone Red এর গন্ধ পাচ্ছি তাই একটা Wild Guess করলাম!”

বরুন বাবু বললেন, “খুব ভুল বলেন নি আপনি। তবে গার্লফ্রেন্ড না। উনি আমার স্ত্রী।”

শারদ্বত বলল, “আচ্ছা উনিও কি আপনাদের ওই ক্রিয়েটিভ টিমের মিটিং এ থাকতেন?”

–      হ্যাঁ থাকতেন তো। কেন?

–      বেশ তাহলে ওঁকে দিয়েই আমাদের কাজ শুরু করি!

–      মানে? ওকেও আপনারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন নাকি?

–      অবশ্যই করব। কেন আপনার কি মনে হয় আপনার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই।

–      হ্যাঁ? না। ঠিক আছে। যেটা দরকারী মনে হয় করুন। আমার কোনো আপত্তি নেই।

বরুন বাবু ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। বরুন বাবুর স্ত্রী রইলেন আমাদের সাথে। শারদ্বত ওর কাজ শুরু করল।

আমি বরুন বাবুর স্ত্রী কে বললাম, “আপনার নামটা জানা হয় নি!”

উনি কিছু উত্তর দেওয়ার আগেই শারদ্বত আমায় বলল, “স্বাভাবিক! ওঁকে তো আমরা দেখলামই এই কিছুক্ষন আগে, তাহলে নামটা জানবে কীভাবে তুমি!”

কাজের জায়গায় এরকম আচার আচরন গুলো ঘটলেই আমার মাথাটা এখন খুব গরম হয়ে যায়। আমি উত্তর দিলাম না। ভদ্রমহিলা বললেন, “আমার নাম ঐন্দ্রিলা সিনহা!”

শারদ্বত বলল, “বিয়ে কতদিন হয়েছে?”

–      তিন বছর।

–      কেন?

–      কেন মানে?

ভদ্রমহিলা এবার একটু অবাক হলেন।

শারদ্বত বলল, “মানে বিয়ে কেন করলেন ওঁকে? প্রেম করে? নাকি Arranged Marriage?”

ঐন্দ্রিলা দেবী বললেন, “Arranged Love Marriage! জানেনই তো! আজকাল যেটা হয়!”

শারদ্বত বলল, “না জানিনা। কী হয় আজকাল? Please Explain in Detail.”

ঐন্দ্রিলা দেবী একবার আমার দিকে তাকালেন। তারপর বললেন, “আমাকে কখনও একবার দেখেছিল বরুন। তারপরেই ওর বাড়িতে কথা বলে আমাকে নিয়ে। ওর বাড়ির লোক আমার বাড়িতে কথা বলে। আমরা মাস ছ’য়েক প্রেম করি। তারপর বিয়ে।”

–      কোথায় দেখেছিল?

–      হ্যাঁ?

–      আপনাকে বরুন বাবু কোথায় দেখেছিল?

–      সেটা তো মনে নেই। কেন বলুন তো?

–      মনে করুন। সব ডিটেলই খুব জরুরী।

–      ওই ওদের পাড়াতেই বোধহয়!

–      ওদের পাড়া মানে যাদবপুরে?

–      হ্যাঁ তাই হবে হয়তো।

–      আপনার নিজের বাড়ি কোথায়?

–      ব্যারাকপুরের দিকে।

–      ব্যারাকপুর থেকে আপনি যাদবপুর কেন গিয়েছিলেন?

–      উফফ! আমি জানিনা। আমার অত মনে নেই! ৪-৫ বছর আগেকার ঘটনা।

–      সাড়ে তিন বছর।

–      সেটা কে বলল আপনাকে?

–      আপনিই বললেন। একটু আগে। ছ মাস প্রেম করেছেন। তারপর বিয়ে হয়েছে তিন বছর হল। সাড়ে তিন।

মহিলা এবার বোধহয় একটু চাপে পড়েছেন মনে হল। এসি চলছে তাও মনে হচ্ছে কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।

আমি বললাম, “ক্রিয়েটিভ মিটিং গুলোতে তো আপনি থাকতেন!”

ঐন্দ্রিলা দেবী গলা ঝেড়ে বললেন, “হ্যাঁ। থাকতাম!”

শারদ্বতর দিকে তাকালাম আড়চোখে। দেখলাম ফোনে কিছু দেখছে। পরের প্রশ্নও তাই আমিই করলাম।

–      তা ওখানে আপনার কী কাজ থাকত? মানে ক্রিয়েটিভ মিটিং এ?

–      কাজ কিছুই না। ও চাইতো আমি থাকি। কিছু ফাইলের দরকার পড়লে আমায় দরকার পড়ত। পুরোনো কোনো অ্যাড এর রেফারেন্স দরকার হলেও আমাকে বলত ওরা। আমি পুরো Database টার খেয়াল রাখি।

–      আচ্ছা। বেশ।

“আপনার কোন কলেজ ছিল?” শারদ্বতের প্রশ্ন

ভদ্রমহিলা বললেন, “আমার কলেজের সাথে এই কেসের কী সম্পর্ক শারদ্বতবাবু!”

শারদ্বত বলল, “সম্পর্ক আছে কি না জানিনা। আপনার ফেসবুক প্রোফাইল টা দেখছিলাম। ওখানে দেখলাম স্কুল আর ইউনিভার্সিটি দেওয়া আছে। কিন্তু কলেজ দেওয়া নেই। তাই জিজ্ঞেস করলাম। তবে যদি আপনি এই প্রশ্নের উত্তর না দিতে চান তাহলে বুঝতে হবে কিছু সম্পর্ক থাকলেও থাকতে পারে!”

ঐন্দ্রিলা দেবী বললেন, “আমি রবীন্দ্রভারতী তে পড়াশুনো করেছি”

শারদ্বত বলল, “এই যে ঘটনাগুলো পর পর ঘটছে কোম্পানী তে মানে কেউ আপনাদের বিজ্ঞাপনের কনসেপ্ট বাইরের একটি কোম্পানী কে জানিয়ে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার কাউকে সন্দেহ হয়?”

ঐন্দ্রিলা দেবী কিছুক্ষন ভাবলেন তারপর বললেন। “কাউকেই সন্দেহ হয় না। তবে  কাজটা কে করাচ্ছে সেটা তো আপনারা সবাই জানেন!”

শারদ্বত বলল, “ও হ্যাঁ। That Reminds me, অরুন বাবু মানে বরুন বাবুর ভাই-এর সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন।”

–      কোনো সম্পর্ক নেই। কথাও বলি না ওঁর সাথে।

–      কেন? স্বামীর বারন আছে নাকি?

–      নাহ নাহ। একেবারেই না। আমার ইচ্ছেও করে না কথা বলতে।

–      আচ্ছা ওঁর সাথে আপনার স্বামীর এই ঝামেলার কারণ কী?

–      এই বিষয় টা আপনি Kindly একটু ওর থেকে জেনে নেবেন। এসব ব্যাপারে আমার মন্তব্য না করাই ভালো!

–      এই ক্রিয়েটিভ মিটিং এ যারা থাকে তাদের কাউকে আপনার সন্দেহ হয়?

–      নাহ। সন্দেহ সেভাবে হয় না। তবে এদের মধ্যে একজন দেখেছি মিটিং এর মাঝে বার বার মেসেজ করে। পকেট থেকে ফোন বের করে আবার রাখে!

–      কে সে?

–      রাজর্ষি। রাজর্ষি হালদার।

–      এই যে মিটিং হয় এটার কি কোনো ভিডিও রেকর্ডিং আছে?

–      নাহ। রেকর্ডিং তো নেই। তবে সব রুমেই সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। কাজেই সবটাই রেকর্ডেড থাকে।

–      বাহ! ভালো! ওহ ভালো কথা, শেষ অ্যাড চুরি টা কবে হয়েছে?

–      এই তো মহালয়ার আগের দিন আমরা জানতে পারি টিভি দেখে।

–      দেবীপক্ষ শুরুর আগে? বাহ! বেশ সুন্দর চুরি তো!

ঐন্দ্রিলা দেবী কিছু বললেন না। শারদ্বতও আর কথা বাড়ালো না। একটু থেমে বললো, “ঠিক আছে আপনি যেতে পারেন। একবার বরুন বাবু কে ডেকে দিন।”

একটু পর বরুন বাবু এলেন। শারদ্বত ওকে বলল, “আপনার সাথে আপনার ভাই এর ঝামেলার কারন টা কী একটু বলবেন?”

বরুন বাবু বললেন, “কারণ টা এমন কিছু গুরুতর নয় শারদ্বত বাবু। এই কোম্পানীটা আমি আর অরুন দু’জনে মিলেই শুরু করেছিলাম। হঠাৎ ওর কী হল জানিনা অকারণে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করল।”

শারদ্বত বলল, “অকারণ বলে কিছু হয় না বরুন বাবু। সব কিছুর পেছনেই কোনো না কোনো কারণ থাকে। আপনি ভালো করে মনে করে বলুন সেই সময় আর কিছু হয়েছিল কিনা। কোনো ঝামেলা, কোনো ঘটনা যেটার সাথে এটার সম্পর্ক থাকতে পারে!”

বরুন বাবু কিছু একটা বলতে গিয়েই আবার গালে হাত দিয়ে যন্ত্রনায় কঁকিয়ে উঠলেন।

আমি বললাম, “দাঁতের ব্যাথাটা কি সারছে না?”

বরুন বাবু বললেন, “নাহ! তবে আগের থেকে অনেক কমেছে। আগে তো স্থির হয়ে বসে থাকতে পারতাম না। এখন তাও পারি। তবে প্রত্যেক মাসে অনেকটা করে টাকা চলে যায় দাঁতের ডাক্তারের পেছনে। আজকেই আবার অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে!”

বুঝলাম এই কারনেই আজ ভদ্রলোকের মুখে পান নেই। দাঁতের ডাক্তার দেখলেই রেগে যেতে পারেন!

শারদ্বত বলল, “বরুন বাবু… আপনি বোধহয় কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন!”

বরুন বাবু বললেন, “ও হ্যাঁ। দেখুন অরুনের সাথে আমার ঝামেলার শুরু হয় বছর চারেক আগে। হঠাৎই একটা অ্যাড এর কনসেপ্ট ওর পছন্দ ছিল। আমার পছন্দ হয় নি বলে সেটা বাতিল করে দিই। সেদিনই হঠাৎ ও খুব রেগে যায়। আমার ওপর চিৎকার চেঁচামেচি করে। আমি অত পাত্তা দিই নি। ওর এমনি মাথা গরম অল্পেতেই। ঐন্দ্রিলা কে বলেছিলাম সব। ও বলেছিল মিটিয়ে নিতে। আমি চেয়েও ছিলাম মেটাতে। কিন্তু ও রাজি হয় নি।”

–      তখন আপনার ঐন্দ্রিলা দেবীর সাথে বিয়ে হয়ে গেছে?

–      না তখন সবেমাত্র আমাদের দুই বাড়ির মধ্যে কথা শুরু হয়েছে। প্রেমের শুরু ওই সময়ে বলতে পারেন।

–      Okay. Carry On.

–      হ্যাঁ। তারপর কিছু আর হয় নি। এর মাস খানেক পর আমার এনগেজমেন্টের দিন বাইরের লোকের সামনে অফিসের সেই ঘটনা নিয়ে কি যাতা চিৎকার করল। আমি তখনই বলেছিলাম বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে। ও বেরিয়েও গিয়েছিল। আর ফেরেনি। পরে বাবার প্রোপার্টির হাফ নিতে এসেছিল একবার। ওই শেষ! আর ওকে দেখিনি। শুনেছিলাম নিজে একটা অ্যাড কোম্পানী খুলেছে। নাম Sinha Marketing Solution।

শারদ্বত বলল, “বুঝলাম। তা আপনার ক্রিয়েটিভ টিমের বাকিরা এসেছে আজ?”

বরুন বাবু বললেন, “হ্যাঁ এসেছে তো! ডাকবো?”

শারদ্বত বলল, “হ্যাঁ। সবাই কে ডাকুন! আর ওদের ডিটেইলস গুলো আমার লাগবে। কোম্পানীর কাছে আছে তো?”

–      হ্যাঁ। আছে। ঐন্দ্রিলা কে বললেই বের করে দেবে। বলছি এক্ষুনি। আর ইয়ে… সবাই কে একসাথেই ডাকবো?

–      হ্যাঁ। একসাথে। আর আপনাদের লাস্ট ক্রিয়েটিভ টিমের মিটিং কবে হয়েছে?

–      পরশুদিন। কেন?

–      ওটার সিসিটিভি ফুটেজ টা আমার লাগবে।

–      কেন?

–      সেটা পরে জানতে পারবেন। আপাতত ওটার একটু ব্যবস্থা করুন।

বরুন বাবু রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন কর্মচারীদের ডাকতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ আনতে।

আমি শারদ্বতকে বললাম, “একসাথে জেরা করবে নাকি?”

শারদ্বত বলল, “আরে দেখোই না!”

একটু পর ঘরে এলো ৬ জন। সামনের ছ’টা চেয়ারে ৬ জন কে বসতে ইঙ্গিত করল শারদ্বত। তারপর বরুন বাবু কে বলল বাইরে গিয়ে দাঁড়াতে। ভদ্রলোক আমাদের কিছু কাগজ আর একটা পেনড্রাইভ দিয়ে কথা না বাড়িয়ে চলে গেলেন বাইরে!

আমাদের সামনে তখন ৬ জন বসে। ৪ জন পুরুষ এবং দু’জন মহিলা!

শারদ্বত বলল, “নমস্কার। আমার নাম শারদ্বত হাজরা। আপনারা সবাই আপনাদের কোম্পানীর অ্যাড চুরির কেস টা জানেন। সেই কারনেই আমি এসেছি। চোর ধরতে। আমি আপনাদের কয়েকটা প্রশ্ন করব। এর ঠিকঠাক উত্তর দেবেন! মিথ্যে বলবেন না।”

সবাই ঘাড় নাড়ল। শারদ্বত এবার সামনের বড় LED TVর সাথে যে ল্যাপটপ টা কানেক্টেড ছিল তাতে ওই পেনড্রাইভ টা লাগিয়ে দিল। তারপর চালিয়ে দিল সেদিনের সিসিটিভ ফুটেজ। কী করতে চাইছে কিছুই বুঝতে পারছি না। এইভাবে সবাই এর সাথে একসাথে কেনই বা আমরা সিসিটিভি দেখছি?

শারদ্বত খুব মন দিয়ে দেখছে সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজ আর মাঝে মাঝেই ঐ ছ’জনের দিকে তাকাচ্ছে। আর হাতের কাগজের ওপর চোখ বুলোচ্ছে! হঠাৎ ভিডিও Pause করে শারদ্বত বলে উঠল, “মিসেস গৌরী মুখার্জী কে আছেন?”

একজন মহিলা উঠে দাঁড়ালেন চেয়ার থেকে। শারদ্বত ওঁকে একবার আপাদমস্তক দেখে বললেন, “ঠিক আছে। আপনি যেতে পারেন!”

মাঝে মাঝে শারদ্বত কী করে, কেন করে কিছুই বুঝি না। এইভাবেই একে একে আরও ৩ জন কে পাঠিয়ে দিল বাইরে। ভেতরে যারা রইলেন তাঁরা হলেন সৃজনী নস্কর এবং রাজর্ষি হালদার।

ভিডিও দেখা শেষ করে তাদের দিকে ফিরে শারদ্বত বলল, “প্রেম নিয়ে আপনাদের কোম্পানী পলিসি কী?”

সৃজনী মেয়েটি একটু অবাক চোখে তাকিয়ে রইল আমাদের দিকে। তারপর রাজর্ষির দিকে একবার তাকাল। রাজর্ষি বলল, “কেন বলুন তো? কী বলতে চাইছেন কী?”

শারদ্বত বলল, “এই যে আপনি আর মিস সৃজনী প্রেম করছেন এটা নিয়ে আপনাদের বসের বক্তব্য কী?”

রাজর্ষি ছেলেটি বলল, “কে বলল আমরা প্রেম করছি?”

শারদ্বত বলল, “আমি বললাম এই মাত্র। Pay Attention Please!”

–      আপনি বললেই সেটা সত্যি হয়ে যাবে নাকি?

–      দু’জনের গলাতেই লাল দাগ টা খুব স্পষ্ট। আর সিসিটিভি ফুটেজেও দেখলাম একজন ফোনে টেক্সট সেন্ড করার পরেই মিটিং এর মাঝেই আর একজনের ফোন ভাইব্রেট করে উঠল। একবার নয় একাধিক বার। আর তাছাড়া এই রুমে আসার পর আপনাদের বসতে বলার পরেই দেখলাম দু’জন একবার দু’জনের দিকে তাকালেন। তারপর আরও বেশ কয়েকবার চোখে চোখে কথা হল খেয়াল করলাম। সেই জন্যেই জিজ্ঞেস করলাম আপনাদের কোম্পানী পলিসি টা।

“কোম্পানী পলিসি বলছে সহকর্মীর সাথে প্রেম করা চলবে না।”  এতক্ষন পর কথা বলল সৃজনী।

শারদ্বত বলল, “তার মানে কোম্পানীর কেউ এখনও বিষয় টা জানে না?”

“না!” রাজর্ষি উত্তর দিল এবার।

শারদ্বত বলল, “গুড! এবার মিটিং এ বস বা বসের স্ত্রী যখন থাকেন না তখন ঠিক কী আলোচনা হয় সেগুলো যদি একটু বলেন!”

রাজর্ষি ভুরু কুঁচকে বলল, “আপনি চান আমরা আমাদের co-worker দের নিয়ে গসিপ করি?”

শারদ্বত হেসে বলল, “অবশ্যই চাই! নাহলে তো আপনাদের নিয়ে গসিপ হবে!”

–      ব্ল্যাক মেইল করছেন?

–      বাস্তবটা বলছি। নিন শুরু করুন।

রাজর্ষি আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল। ওকে থামিয়ে সৃজনী বলল, “দেখুন সবাই এখানে খুব প্রোফেশনাল। কেউ কারোর সামনেই বস বা ওঁর স্ত্রী কে নিয়ে খারাপ কথা বলেন না। তবে মাঝে মাঝে তো কিছু না কিছু বিষয় নিয়ে রাগ হয় সবারই। আমাদেরও হয়েছে। কিন্তু আসলে তো আমরা চাকর। এখানে চাকরি করতে এসেছি। কাজেই এগুলো তো মেনে নিতেই হবে!”

“এই কনসেপ্ট চুরির ব্যাপারে কাউকে সন্দেহ হয়?” জিজ্ঞেস করল শারদ্বত

রাজর্ষি বলল, “না হয় না। আমরা সবাই খুব ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করি। সবাই নিজেদের সবটা দিয়ে-

শারদ্বত হাত তুলে ওকে থামিয়ে বলল, “আপনি থেমে যান। আমি আঁতলামো দেখতে আসিনি। আমার ফ্যাক্টস চাই। সৃজনী আপনি বলুন।”

সৃজনী একবার রাজর্ষির দিকে তাকিয়ে আমাদের বলল, “এটা ও ঠিকই বলেছে। আমাদের মধ্যে থেকে কেউ এটা করবে বলে মনে হয় না। তবে অনেক সময় এরকম হয় যে বস হয়তো কারুর কনসেপ্ট কে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের কনসেপ্টটাই ফাইনালাইজ করল। তখন সিনিয়র দু’একজন ক্ষুন্ন হয়েছেন। আমাদের কয়েকজনের একটা Whatsapp Group আছে। সেখানে রাগ উগরে দিয়েছেন এরকম হয়েছে!”

“অন্য কোথাও কনসেপ্ট বেচে দিতে পারেন এরকম রাগ?” আমি জিজ্ঞেস করলাম এবার।

সৃজনী বলল, “নাহ। অতটাও না। ঠিক তার পরের ভিডিওর ক্ষেত্রেই আবার ওঁর কনসেপ্ট চুরি হয়েছে। কাজেই ভুক্তভুগী আমার সবাই!”

শারদ্বত বলল, “ঠিক আছে। আপনারা যান। আপনাদের ফোন নাম্বার তো এই ডিটেইলস এই পেয়েছি। কিছু দরকার হলে যোগাযোগ করে নেবো!”

আর একটাও কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে গেল ওরা দু’জন!

“ধুর! শুধু শুধু আপনার ঝামেলা বাড়ালাম!”

কথাটা বলেছি আমি। আমরা এখন চলেছি Sinha Marketing Solution এ। শারদ্বত Ola-Uber করবে শুনেই বরুন বাবু বললেন,  “আমার গাড়ি আছে। আমিও ওইদিকেই যাবো। চলুন নামিয়ে দিচ্ছি!”

আমি শুনেই বাধা দিয়েছিলাম। বলেছিলাম এত ঝামেলার দরকার নেই। কিন্তু উনি শুনলেন না।

গাড়িতে যেতে যেতে আমার কথা শুনে বরুন বাবু বললেন, “আরে ঝামেলার কিছু নেই। আমার যেখানে দাঁতের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেখান থেকে মিনিট ১৫ পরেই অরুনের অফিস! আমাকে নামিয়ে দিয়ে আমার গাড়ি আপনাদের ড্রপ করে দেবে ওখানে।”

শারদ্বত বলল, “আপনি কি ভাই এর অফিসে গেছেন কখনও?”

–      না তবে। ওর অফিসের পাশ দিয়ে গিয়েছি। দেখেছি অফিস টা।

শারদ্বত কিছু বলল না। এর পরেই বরুন বাবু ড্রাইভার কে বললেন সাইড করতে। পাশেই একটা ছোটো পুজো প্যান্ডেল। ঠাকুর নেই অবশ্য। বুঝলাম কুমোরটুলি থেকে পরে আসবে। প্যান্ডেলের ঠিক উলটো দিকেই দেখলাম সাইন বোর্ড। চৌধুরী ডেন্টাল ক্লিনিক। আমাদের বাই বলে চলে গেলেন বরুন বাবু। গাড়ি আবার চলতে শুরু করল।

শারদ্বত বলল, “তুমি অনেকক্ষন থেকে কিছু একটা প্রশ্ন করার জন্য ছটফট করছো বুঝতে পারছি। করে ফ্যালো!”

বললাম, “বরুন বাবুর অফিসে শেষে ওটা কী করলে? ৬ জন কে একসাথে ডাকলেই বা কেন? আর ৪ জন কে চলে যেতে বললেই বা কেন?”

শারদ্বত বলল, “আসলে ওই ভিডিওটা দেখার সময়েই সবার মুখের এক্সপ্রেশন খেয়াল করছিলাম। যে দু’জনের মুখে সবচেয়ে বেশী টেনশন দেখলাম তাদেরই থাকতে বললাম ভেতরে। হাঁড়ির খবর জানবো বলে।”

–      কি লাভ হল ওই সামান্য কথা বলে?

–      লাভ ক্ষতি কী আর এখন বোঝা যাবে ভাই?

–      শুধু শুধু তুমি ওদের ভয় দেখালে! কাজের কাজ কিছু হল কী?

–      দেখাই যাক!

গাড়ি থামলো একটা ৩ তলা বিল্ডিং এর সামনে। নেমে পড়লাম আমরা। সামনেই দেখলাম ছোটো সাইনবোর্ড Sinha Marketing Solution! তবে বাইরে থেকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে অফিসের ভেতরকার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। অর্থাৎ অবস্থা স্বচ্ছল নয় অরুন বাবুর। গেটে কেউ ছিল না আটকানোর মত। তাই সোজা ঢুকে এলাম ভেতরে। কর্মচারীও তেমন নেই। অদ্ভুত তো! এ কেমন অফিস?

সামনের একটা ঘরে লাইট ফ্যান চলছিল। আমরা এগিয়ে গেলাম সেই ঘরের দিকে। ঘরে বসে মাথা নীচু করে ফোনে কিছু একটা ভিডিও দেখছিলেন এক ভদ্রলোক (পরে মাথা তুলতেই বুঝেছিলাম ইনিই বরুন বাবুর ভাই। দু’জনের মুখের গঠন আর গায়ের রঙ প্রায় এক রকম)।

শারদ্বত বলল, “অরুন সিনহা আপনি?”

ভদ্রলোক খুব চমকে গেলেন প্রথমে। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “হ্যাঁ? কী?… আপনি… আপনি কে?”

শারদ্বত বলল, “আমার নাম শারদ্বত হাজরা। আপনার নাম কী অরুন সিনহা?”

ভদ্রলোকের অবাক হওয়া ভাব টা তখন কমেছে। উনি বললেন, “হ্যাঁ। আমিই অরুন সিনহা! আপনারা কে? ভেতরে এলেন কীভাবে?”

শারদ্বত বলল, “দরজা দিয়ে এলাম। আপনার সাথে একটু কথা ছিল!”

ভদ্রলোক বললেন, “কথা? ও বসুন। বিজ্ঞাপন নিয়ে?”

আমি বসলাম। শারদ্বত বসল না। ছোট্টো ঘরটায় এদিক ওদিক ঘুরতে থাকল।

বলল, “হ্যাঁ। বিজ্ঞাপনও বলতে পারেন! বিজ্ঞাপন চুরিও বলতে পারেন! এসব নিয়েই আর কী।”

অরুন বাবু ভুরু কুঁচকে বললেন, “চুরি মানে? কী বিজ্ঞাপন চুরি?”

শারদ্বত বলল, “বিজ্ঞাপনের কনসেপ্ট চুরি!”

কথাটা বলার পর অরুন বাবু কয়েক মুহুর্ত চুপ করে বসে রইলেন শারদ্বতর দিকে তাকিয়ে। ভেবেছিলাম ভদ্রলোক হয়তো অস্বীকার করবেন সমস্ত কথা! কিন্তু আমাদের সবাই কে অবাক করে দিয়ে ভদ্রলোক বললেন, “ওহ তাই বলুন! আপনারা তাহলে টিকটিকি! দাদা লাগিয়েছে বুঝি?”

শারদ্বত বলল, “তাহলে আপনি কি স্বীকার করছেন চুরির ব্যাপার টা?”

অরুন বাবু হেসে বললেন, “স্বীকার? কিসের স্বীকার? এটা কি কোনো প্রোপার্টি নাকি? চুরির কী আছে!”

“ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি তো বটেই!” আমি বলে উঠলাম।

অরুন বাবু তাও হাসতে থাকলেন। বললেন, “তাহলে আপনার ক্লায়েন্ট কে বলুন কেস করতে! কনসেপ্ট চুরির দায়ে পুলিশ আমায় জেলে নিয়ে যাক!”

অরুন সিনহার এই সদাহাস্যময় মুখ টা আমার আর সহ্য হচ্ছিল না। লোকটা আগে থেকেই জানত আমরা আসতে চলেছি! সেই কারনের সমস্ত রেগুলার প্রশ্নের উত্তর পুরো যেন রেডি করা ছিল মনে হয়।

শারদ্বত বলল, “আচ্ছা অরুন বাবু, সবই বুঝলাম। কিন্তু দাদার ওপর আপনার এই রাগের কারণ টা জানতে পারি?”

অরুন বাবুর মুখ টা কঠিন হল মুহুর্তের জন্য! তারপর উনি বললেন, “সে তো আপনার খুঁজে বের করার কথা! এটা অন্তত নিজে খুঁজে বের করুন!”

“এটা অন্তত মানে?” আমি আবারও জিজ্ঞেস করলাম

অরুন বাবু হেসে বললেন, “মানে আমি যে চুরি করছি সেটা তো আপনি জানেনই। এর জন্য তো আপনাকে মাথা খাটাতেও হয় নি। কিন্তু কেন করছি সেটা তো অন্তত মাথা খাটিয়ে বের করুন! নাহলে আপনি কীসের ডিটেকটিভ মশাই?”

শারদ্বত অরুন সিনহার টেবিলের দিকে তাকিয়ে ছিল এক দৃষ্টি তে। তারপর বলল, “কেন শুধু নয়। কীভাবে! কীভাবে ব্যাপারটা ঘটাচ্ছেন আপনি সেটাও খুঁজে বার করা দরকার!”

অরুন বাবুর মুখে তখনও হাসি। উনি বললেন, “ও হ্যাঁ। তাই তো! বের করুন দেখি ভেতর থেকে কে খবরগুলো দিচ্ছে আমায়! পারলে আপনাকে আমিও পুরস্কৃত করব। দেখি আপনি কত বড় গোয়েন্দা শারদ্বৎ বাবু!”

এই রে! এটা কি চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে! এবার ঝামেলা বাড়বে। শারদ্বতকে কেউ চ্যালেঞ্জ করলেই ওর মাথা খারাপ হয়ে যায়! পাগলের মত আচরন করে ও কেস সল্ভ না করা পর্যন্ত!

শারদ্বত বলল, “শারদ্বত!”

অরুন বাবু বললেন, “কী?”

শারদ্বত বলল, “আমার নাম শারদ্বৎ না। শারদ্বত হাজরা! প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করার আগে তার সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিতে হয় অরুন বাবু। যাই হোক, কেস সল্ভ হলে তো জানতেই পারবেন। তারপর কথা হবে! আজ আসি! All the Best!”

কথাটা বলে অরুন সিনহা কে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই আমরা বেরিয়ে এলাম ওঁর অফিস থেকে। বাইরে এসেই শারদ্বত চেঁচিয়ে ডাকল, “ট্যাক্সিইই!”

বাড়ি ফিরে ল্যাপটপ টেবিলের সামনের রিভলভিং চেয়ারটায় বসে এক মনে কি যেন ভাবছিল শারদ্বত।

আমি একটু এটিএম এ গিয়েছিলাম। আমার পায়ের শব্দ পেয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করল, “অনিরুদ্ধ, আজ কি তৃতীয়া?”

বললাম, “হ্যাঁ বোধহয়। কেন?”

–      নাহ! এমনিই। পুজো কবে সেটা মনে পড়ছিল না!

–      কেসটা নিয়ে কী ভাবছো!

–      ভাববার বিষয় একটা জায়গাতেই। ওই ক্রিয়েটিভ টিমেই কেউ একজন ছিল যে পুরো ব্যাপারটা ফাঁস করছে!

–      কিন্তু তুমি তো বললে ওরা কেউ না!

–      হুম। হতেই পারে বাইরের কেউ না! হয়তো এমন কেউ যাকে আমরা সেভাবে সাসপেক্ট তালিকায় রাখছিও না।

কথা বলতে বলতেই হাতের স্মার্টফোন টা ঘাঁটছিল শারদ্বত। হঠাৎই কি একটা দেখে বলল, “আমি এক্ষুনি আসছি ছাদ থেকে। একটু একা থাকা দরকার!”

একা থাকার জন্য ছাদে কেন যেতে হবে বুঝলাম না। আমিই তো আমার ঘরে চলে যেতে পারতাম! যদিও সে কথা আর বললাম না। ও চলে গেল ছাদে। আমি গিয়ে দাঁড়ালাম বারান্দায়।  আমাদের বাড়ির ঠিক পাশেই একটা পুজো হয়। সেখানে তো প্রস্তুতি তুঙ্গে। বারান্দা থেকেই সব দেখা যাচ্ছে। প্রতিমা নিয়ে চলে এসেছে ওরা। কিন্তু সব প্রতিমার মুখ গুলো পেপার দিয়ে ঢাকা। ওরা সাধারনত পঞ্চমী থেকে ওদের অনুষ্ঠান শুরু করে। এবারও কি তাই করবে? কলকাতার পুজো যেভাবে এগোচ্ছে তাতে আর কয়েক বছর পর মনে হয় মহালয়া থেকেই প্রতিমা দর্শন শুরু হয়ে যাবে!

কতক্ষন বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলাম জানি না। একটু পরেই পেছনে দরজা খোলার আওয়াজে বুঝলাম শারদ্বত ফিরে এসেছে। বললাম, “পরিষ্কার হল?”

শারদ্বত বলল, “কী পরিষ্কার হবে?”

বললাম, “মাথা! ছাদে গেলে যে!”

শারদ্বত বলল, “ছাদে গিয়েছিলাম ফোন করতে! মাথা পরিষ্কারের কী আছে? মাথা আমার এমনিই পরিষ্কার!”

–      তাহলে বললে যে একটু একা থাকা দরকার!

–      ওটা বললাম যাতে তুমি পিছু না নাও! যা করেছি তোমার ভালোর জন্যেই করেছি।

–      মানে?

–      মানে আমার দু’একটা ফোন করার ছিল সেই জন্যেই ছাদে গিয়েছিলাম। ফোনের বিষয়বস্তু ফাঁস হয়ে গেলে তোমার গল্পের পাঠকরা কালপ্রিট আগেই পেয়ে যেত। সেই কারনেই তোমাকে নিয়ে যাই নি।

–      ধুর! পোষাচ্ছে না ছাই! কালপ্রিট কে তা তো আমরা আগে থেকেই জানি।

–      হুম। কিন্তু আর একজন কালপ্রিট তো রয়েছে তাই না! যে এই সমস্ত কিছু পৌঁছে দিচ্ছে অরুন সিনহার কাছে।

–      হ্যাঁ। তা তো আছেই। কিন্তু তাকে কী আমরা পেয়েছি?

কথাটা বলার সাথে সাথেই খোলা বারান্দা থেকে কি যেন একটা এসে পড়ল আমাদের ঘরে। দেখলাম একটা আধলা ইঁট। আর একটু হলেই আমাদের কারও একটা পায়ে পড়ত সেটা। শারদ্বত সাথে সাথে দৌড়ে গেল বারান্দার দিকে। বাইরের দিকে তাকিয়ে বলল, “অনিরুদ্ধ ও পালাচ্ছে!”

কথাটা বলেই দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেল দৌড়ে! আমি কয়েক মুহুর্ত কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তারপরেই হঠাৎ খেয়াল হতেই দৌড়োলাম শারদ্বতের পেছন পেছন। আজ তৃতীয়া হলেও রাস্তায় লোকের সংখ্যা খুব একটা বেশী নয়। শারদ্বত আমার সামনে সামনেই দৌড়োচ্ছে। আর অনেক দূরে দেখতে পাচ্ছি একটা ছায়ামূর্তি! প্রচন্ড স্পিডে দৌড়োচ্ছে সেও। একটু পরেই সে মিলিয়ে গেল অন্ধকারে। থেমে গেলাম আমরা। শুধু শুধু নিজেদের শক্তি খরচ করে লাভ নেই। ওকে ধরা যাবে না। দোতলা থেকে নেমে আসতে আসতেই ও অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল।

বাড়ি ফিরে দেখলাম আর এক চমক। ঠিক যেখানে পড়েছিল ইঁট টা তার পাশেই পড়ে রয়েছে একটা কাগজ। কাগজ টা তুলে নিল শারদ্বত। তারপর একবার চোখ বুলিয়ে, দিল আমার হাতে। তাতে লেখা, “হাল ছেড়ো না বন্ধু!”

বুঝলাম আমাদের ব্যাঙ্গ করছেন অরুন সিনহা! লাল রঙ এর অদ্ভুত একটা কালিতে সেটা লেখা।

শারদ্বত বলল, “দুই ভাই এরই পান খুব প্রিয় তাহলে!”

আমি বললাম, “মানে? কী করে জানলে?”

শারদ্বত বলল, “পানের পিক দিয়ে লেখা হয়েছে এটা”

আমি ঘেন্নায় মুখ বিকৃত করে ফেলে দিলাম হাতের কাগজ টা। বললাম, “ইস! ছি! মানুষের ঘেন্না বলে কিছু নেই নাকি?”

শারদ্বত কিছু বলল না। কাগজ টা তুলে নিল মাটি থেকে। তারপর নিজের ঘরে যেতে যেতে বলে গেল, “গোড়াতেই গন্ডগোল বুঝলে অনিরুদ্ধ! গোড়াতেই গন্ডগোল!”

পরের দিন সকালে বরুণ বাবু ফোন করলেন। জিজ্ঞেস করলেন কতদূর এগোলাম আমরা।

শারদ্বতকে ফোনে পাননি উনি৷ তাই আমাকে ফোন করেছেন এটাও জানালেন! বললাম, “একটু সময় তো লাগবেই। বুঝতেই পারছেন৷ এতজন সাসপেক্ট!”

উনি জিজ্ঞেস করলেন, “অরুন কী বলল?”

এই রে! কেসের মাঝে কেসের ভেতরের খবর বাইরে বের করছি শুনলে শারদ্বত খেপে যাবে। কি বলব না বলব সেই ভেবেই আমতা আমতা করছিলাম। হঠাৎই আমাকে বাঁচাতেই যেন পাশের ঘর থেকে বেরিয়ে এল শারদ্বত হাজরা। আমি কিছু না বলে ফোন টা এগিয়ে দিলাম ওকে।

ও কানে দিয়ে বলল, “বলুন। শারদ্বত কথা বলছি”

ও প্রান্ত থেকে কী বলা হল জানিনা!

শারদ্বতর কথাগুলো আমি লিখে দিচ্ছি!

– আমার ফোনটায় একটু সমস্যা হচ্ছিল। বলুন।

-…

– বেশী বাকি নেই। হয়ে যাবে খুব শিগগিরি।

-..

– ওহ আচ্ছা! কখন?

– …

– ঠিক আছে। দেখছি যদি পারি-

-…

– আচ্ছা ঠিক আছে আসছি! হুম। Okay.

ফোন রাখার পর জিজ্ঞেস করলাম, “কি হলো? কি ব্যাপার?”

শারদ্বত বলল, “একটু বেরোতে হবে!”

আমি বললাম, “কোথায় যাবে?”

শারদ্বত বলল, “শুধু আমি না তুমিও যাবে!”

– আরে কোথায় যাব সেটা তো বল!

– বরুণ বাবু ওর অফিস পাড়ার পুজোয় একটা বক্তৃতা দেবেন। সেটা শুনতে যাব।

– মানে? কেন বক্তৃতা দেবেন?

– সে আমি জানিনা। ওকে অনুরোধ করা হয়েছে কিছু বলার জন্য।

– বুঝলাম। তা আমাদেরকে যেতেই হবে?

– দেখো উনি চেয়েছিলে এই কেস সলভের গল্পটা বক্তৃতায় বলতে। উনি নাকি বলতে চেয়েছিলেন ওকে কিভাবে পদে পদে আটকানোর চেষ্টা হয়েছে, তাও কেউ আটকাতে পারেনি। কিন্তু যেহেতু আমরা কেসটা সলভ করতে পারি নি সেহেতু ওটা উনি বলতে পারবেন না। ব্যাপারটা শুনে একটু খারাপ লাগলো। সেই কারণেই মনে হলো ডাকছেন যখন চলে যাই। এমনিতেও চতুর্থীর দিন বাড়িতে বসে কোন লাভ নেই।

কথাটা শারদ্বত ভুল বলেনি। খেয়ালই নেই যে আজ চতুর্থী পড়ে গিয়েছে। এই বছর আর সেই পুজো পুজো ফিলটা আসছে না। কথা না বাড়িয়ে তৈরি হয়ে নিলাম। তারপর বেরিয়ে পড়লাম মনিহারার উদ্দেশ্যে!

ওখানে পৌঁছোলাম আধ ঘন্টা পর। চারিদিকে প্রচন্ড তোড়জোড় চলছে। সৃজনী কে দেখলাম শাড়ি পড়ে এসেছে আজ। রাজর্ষি কে চোখে পড়ল না অবশ্য। ঢাকের একটা আওয়াজ আসছে কোথাও থেকে একটা। কিন্তু ঢাকি কে দেখতে পেলাম না। তাহলে কী স্পিকারে বাজাচ্ছে? হতেই পারে! বরুন বাবু আমাদের দেখে হাত নাড়লেন। ইশারায় বললেন ওকে এক্ষুনি উঠতে হবে স্টেজে। তারপর উনি আসছেন আমাদের কাছে। শারদ্বতও হাত তুলে ইশারায় উত্তর দিল।

ঘটনাটা ঘটল এর ঠিক পরেই। আমরা বসেছিলাম দর্শকাসনে। কেউ একজন অ্যানাউন্স করল এরপর মঞ্চে আসছেন বরুন সিনহা। আজকে আমাদের এই পুজো কমিটির সভাপতি উনি। উনি আজকে আমাদের পুজোর উদ্বোধন করবেন। তারপরেই হাসি মুখে মঞ্চে উঠলেন বরুনবাবু। সঞ্চালকের হাত থেকে মাইক্রোফোন টা নিয়ে কথা বলতে যেতেই ঘটল বিপত্তি। প্রচন্ড তীক্ষ্ণ একটা আওয়াজ বেরোলো স্পীকার থেকে। দর্শকদের সবাইকেই কানে হাত দিতে হল। ওদিকে বরুন বাবুর অবস্থা আরও খারাপ। স্টেজের ওপর দাঁতের যন্ত্রনায় মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন উনি। সবাই দৌড়ে গেল ওদিকে। আমিও এগিয়ে গেলাম। শারদ্বত দেখলাম ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছে সেদিকে। এসব বিপদের মুহুর্তে ওর স্নায়ুতন্ত্র গুলো কি দেরীতে কাজ করে? কে জানে!

“আপনার ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার!”

কথাটা বলেছে শারদ্বত। আমরা এখন রয়েছি বরুন বাবুর অফিসে। ওঁকে সবাই মিলে ধরাধরি করে নিয়ে আসা হল ওরই অফিসে। বরুন বাবুর চোখ খোলা। কিন্তু শরীরটা ছেড়ে দিয়েছে বোঝা যাচ্ছে।

শারদ্বতর কথা শুনে বরুন বাবুর স্ত্রী ঐন্দ্রিলা দেবী বললেন, “কিন্তু আজ কি ডাক্তারবাবু বসবেন? আজ তো চতুর্থী!”

আমি বললাম, “ একবার ফোন করে নিন!”

ঐন্দ্রিলা দেবী ঘাড় নেড়ে ফোন নিয়ে চলে গেলেন একটু দূরেই। তারপর ২-৩ মিনিট বাদে ফিরে এসে বললেন, “হ্যাঁ ডাক্তারবাবু এখনই যেতে বলছেন।”

সবাই মিলে বরুন বাবু কে ওঠানো হল। উনি তখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছেন। উনি বললেন আমি পারবো এবার। তাও ঐন্দ্রিলা দেবী আর পাড়ারই একটি ছেলে দেখলাম ওকে ধরে ধরে নিয়ে লিফটের দিকে এগোলেন।

আমি আর শারদ্বতও এগোলাম বরুন বাবুর পেছন পেছন! গাড়িতে উঠে সামনে বসল শারদ্বত। আমি বসলাম একদম পেছনে। আর মাঝে বসলেন সিনহা দম্পতি। গাড়ি স্টার্ট নেওয়ার পরেই রেডিও তে জোরে গান চালিয়ে দিল শারদ্বত।

আমি বললাম, “তুমি গান শুনবে?”

শারদ্বত কিছু বলল না। ফোনে কাউকে একটা টেক্সট করছিল মনে হল। একটু পর পেছন ঘুরে বরুন বাবু কে বলল, “বরুন বাবু আপনার স্ত্রী আপনাকে কিছু একটা বলতে চায় কিন্তু সাহস পাচ্ছে না।”

বরুন বাবু তখন প্রায় স্বাভাবিক হয়েই গেছেন। ঘোরের মধ্যে থেকে বেরিয়েছেন। উনি বললেন, “হ্যাঁ? কী?”

ঐন্দ্রিলা দেবী বললেন, “পরে শারদ্বত বাবু। প্লিজ। এখন না। আগে ডাক্তার দেখানো হোক। তারপর না হয়…!”

শারদ্বত বলল, “সে আপনার ইচ্ছে। আমার কিছু বলার নেই!”

আমি পেছনে বসে বসে ভাবছি কী হচ্ছে কেস টা! আমি কখনই আগে থেকে কিছু জানবো না? এদিকে ঐন্দ্রিলা দেবী না জানি কি বলবেন বরুন বাবু কে! আর সেটা যদি আমার গল্পের জন্য জরুরী হয় তখন কী হবে? পেছনের সীটে বসেই শারদ্বতকে Whatsapp করলাম, “ব্যাপারখানা কী? কি হচ্ছে এসব?”

শারদ্বতর রিপ্লাই টা দেখেই মনটায় একসাথে উত্তেজনা এবং খুশিতে ভরে গেল। ও লিখল, “যবনিকা পতন!”

গাড়িতে কেউ আর কোনো কথা বলল না। রাস্তায় বেশ জ্যাম। আমরা যখন চৌধুরী ডেন্টাল ক্লিনিকে পৌঁছোলাম, তখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামছে। রাস্তাতেও লোক বেড়েছে। ডেন্টাল ক্লিনিকের উল্টোদিকের পুজোটাও বোধহয় আজ শুরু করবে। ঢাকের আওয়াজ পাচ্ছি। গান বাজছে একটু দূরের স্পিকারে। আমরা ঢুকে গেলাম ক্লিনিকের মধ্যে!

ডাক্তারবাবু দেখলাম হাসিমুখে স্বাগত জানালেন ওঁদের। তারপর একটু অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনারা?”

শারদ্বত বলল, “আমি হলাম গিয়ে টিকটিকি আর ও হল টিকটিকির বন্ধু অনিরুদ্ধ সেন। ওর দাদা নীলাদ্রি সেন লালবাজারের ডেপুটি কমিশনার!”

আমি হেসে বললাম, “নমস্কার ডাক্তারবাবু! কিছু মনে করবেন না। ওর মাথায় একটু… আমরা আসলে আপনার পেসেন্টের সাথে রয়েছি।”

ডাক্তারবাবু আর কথা বাড়ালেন না। বরুনবাবু কে একটা হেলানো বেডে শুইয়ে দিলেন। তারপর জিজ্ঞেস করলেন, “কীভাবে হল আবার এটা?”

শারদ্বত বলল, “সেকি আপনি জানেন না?”

ডাক্তারবাবুর কপালে ভ্রুকুটি। বললেন, “আমি কীভাবে জানবো!”

শারদ্বত বলল, “না মানে আমরা তো সব আলোচনা করতে করতেই এলাম। আপনিই সত্যিই জানেন না?”

ডাক্তারবাবু বললেন, “আপনাদের আলোচনা মানে? আমি জানবো কী করে? আশ্চর্য তো!”

শারদ্বত হাসল। বলল, “আপনি বসে পড়ুন ডক্টর চৌধুরী। আমি আগে বলে নিই কীভাবে কী হল। তারপর আপনি সব বলবেন।”

বরুন বাবু বললেন, “কী ব্যাপার শারদ্বত বাবু? কী হয়েছে?”

শারদ্বত উত্তর দিল না। আমার বুকের ভেতরটা ঢিপ ঢিপ করতে শুরু করে দিয়েছে। এবার শুরু হচ্ছে বোঝা গেল। সেই নাটকীয় যবনিকা পতন।

শারদ্বত বলল, “প্রথমেই আসা যাক মোটিভ এ। আমরা সবাই জানি এই বিজ্ঞাপন চুরির কান্ডটা কে ঘটাচ্ছে বা  ঘটিয়েছে! অরুন সিনহা! কিন্তু হাতে কোনো প্রমান নেই আমাদের। সুতরাং ধরবার উপায় নেই। কিন্তু মোটিভ? মোটিভ কী? ঐন্দ্রিলা দেবী বলুক এটা আমি চেয়েছিলাম। কিন্তু উনি যখন বললেন না তখন আমাকেই বলতে হবে!”

ঐন্দ্রিলা দেবী একটু গলা ঝেড়ে বললেন, “বলুন আপনি। আমার কোনো অসুবিধে নেই। একদিন একদিন ও জানতে পারতোই!”

বরুন বাবু তখন ওই হেলানো চেয়ার থেকে উঠে সোজা হয়ে বসেছেন। উনি বললেন, “কী জানতে পারতাম? কী হয়েছে?”

শারদ্বত বলল, “আপনার ভাই এর সাথে ঐন্দ্রিলা দেবীর একটা সম্পর্ক ছিল। আপনাদের বিয়ের আগেই। ব্যারাকপুর থেকে যাদবপুরে যাতায়াতের কারন ছিল এটাই। তবে যেদিন আপনি ওকে দেখেছিলেন তখন ওদের ব্রেক আপ হয়ে গিয়েছিল বলেই শুনেছি।”

আমি বললাম, “এটা তুমি কীভাবে জানলে?”

–      মনে আছে ঐন্দ্রিলা দেবী কে জিজ্ঞেস করছিলাম উনি কোন কলেজে পড়েছেন। উনি বলেছিলেন রবীন্দ্রভারতী তে। এই রবীন্দ্রভারতীতেই পড়েছেন আর এক শর্মা! তার নাম আশা করি গেস করতে পারছো। অরুন সিনহা। ফেসবুক প্রোফাইলে দেখলাম বড় বড় করে লেখা। কো-ইনসিডেন্স হতে পারত। কিন্তু পৃথিবীতে কাকতালীয় বলে কিছু হয় না। সেদিনই ছাদে গিয়েছিলাম ঐন্দ্রিলা দেবী কে ফোন করতে। ওঁকে confront করতেই উনি খুলে বললেন সব। এই কারনেই অরুন বাবুর এত রাগ দাদার ওপর। দাদা ওর এক্স গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করেছেন এটাই আসল কারন রাগের।

বরুন বাবু বললেন, “এটা আমি কানাঘুষো শুনেছিলাম আগে। কিন্তু পাত্তা দিইনি। আজও দেবো না। আমার সাথে সম্পর্কের আগে ও কী করেছে না করেছে সেই নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যাথা নেই! কিন্তু আমার সাথে থাকাকালীন কী ও সব খবর অরুন কে দিয়েছে? মানে বিজ্ঞাপন চুরির ওই কেস টা…

শারদ্বত বলল, “না। উনি আপনার সাথে থাকাকালীন একটাও ভুল কাজ করেন নি বলেই আমার ধারনা!”

আমি বললাম, “তাহলে কে করেছে?”

শারদ্বত হেসে বলল, “যে করেছে সে তো আপনার সামনেই দাঁড়িয়ে!”

কথাটা বলার সাথে সাথেই আমরা চমকে তাকালাম ডক্টর চৌধুরীর দিকে। উনি হঠাৎ থতমত খেয়ে বললেন, “মানে? যা ইচ্ছে তাই বলে দিলেই কি আপনার কথা সবাই সত্যি বলে মনে করবে নাকি? কী ভেবেছেন কী? আমাদের পুলিশে চেনা জানা নেই?”

শারদ্বত হেসে ফেলল। বলল, “এই সময় টা আপনাদের দেখতে খুব মজা লাগে। মানে আপনারা বুঝতেই পেরে যান যে সব শেষ। আর বাঁচার উপায় নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেমন ভাবে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করেন সব!”

বরুনবাবু বললেন, “ডাক্তার চৌধুরী? কিন্তু উনি তো মিটিং এ ছিলেন না! কিংবা আমি নিজেও কখনও ওর কাছে কিচ্ছু রিভিল করিনি!”

শারদ্বত বলল, “কিন্তু উনি তো না থেকেও ছিলেন। আমার ধারনা আপনার কোনো একটি দাঁতের মধ্যে ক্রাউনের নীচে একটা ন্যানো চিপ উনি প্ল্যান্ট করেছেন! যে ন্যানো চিপ এর বিজ্ঞাপন বানাতেন আপনি। মনে পড়ে?ওই চিপ দিয়েই আপনার সামনে হওয়া সমস্ত কথা বা আপনি যাই কথা বলুন সব উনি এবং অরুন বাবু শুনতে পান নিজের বাড়িতে বসেই! আর এর বদলে উনি মোটা টাকা পাচ্ছিলেন অরুন বাবুর থেকে!”

ঐন্দ্রিলা দেবী এবং বরুন বাবু একসাথে চেঁচিয়ে উঠলেন, “What?”

ডক্টর চৌধুরী বললেন, “ আবোল তাবোল কথা কেন বলছেন মশাই? ইয়ার্কি মারার জায়গা পাচ্ছেন না নাকি? ন্যানো চিপ? সিরিয়াসলি?”

আমরা কেউই সুধীরবাবুর কথায় কান দিলাম না। শারদ্বত এই সব সময়ে মিথ্যে বলবে না সেটা আমার জানা। এটা ওর শো অফ এর সময়। তবে আমার চোখগুলো ছানাবড়া হয়ে গেছে বুঝতে পারছি। টেকনোলজি কি সাঙ্ঘাতিক জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে সেটা ভাবছি! দাঁতের মধ্যে ন্যানো চিপ!

শারদ্বত বলল, “ডাক্তার বাবু ন্যানো চিপ টা এখন খুলবেন নাকি পুলিশের সামনে?”

বরুন বাবু বললেন, “না না। ওঁকে কিছু করতে হবে না। আমি অন্য ডাক্তার দিয়ে খোলাবো! Oh My god!”

আমি বললাম, “তুমি এত কিছু জানতে পারলে কী করে?”

শারদ্বত বলল, “সব কিছু চোখের সামনেই ছিল। কিন্তু সব গুলো কানেক্ট করতে পারছিলাম না। যেমন ধরো ডক্টর সুধীর চৌধুরীর নাম লেখা প্রেসক্রিপশন প্যাড আমি দেখেছি অরুন সিনহার অফিসের টেবিলে। আমাদের হুমকি দেওয়া কাগজে পানের পিক দেখে বুঝেছি ওই ভদ্রলোকও পান খান। তখনই কানেক্ট করা উচিত ছিল। কিন্তু মাঝখানে কিছু একটা মিসিং ছিল। ডট দু’টো কিছুতেই কানেক্ট হচ্ছিল না। আজ সকালে কানেক্ট হয়ে গেল। যখন মঞ্চে গেলেন বরুন বাবু!”

–      মানে? কীভাবে?

–      আজ বরুন বাবু মঞ্চে যাওয়ার পর যেটা ঘটল মানে যে তীক্ষ্ণ আওয়াজ টা বেরোলো স্পিকার থেকে সেটা তখনই হয় যখন দু’টো মাইক্রোফোন খুব কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়! তখনই মাথায় খেলে গেল। মুখের মধ্যে কি তাহলে আর একটা মাইক্রোফোন রয়েছে বরুন বাবুর! কিন্তু কীভাবে? মনে পড়ল বরুন বাবু বলেছিলেন ন্যানো চিপ এর বিজ্ঞাপনের কথা। যা দিয়ে গান শোনা যায় তা দিয়ে রেকর্ডও নিশ্চয় করা যায়। অতএব ডক্টর সুধীর চৌধুরী, অরুন বাবু আর দাঁতের ক্রাউন তিন এক্কে তিন মিলে গেল সাথে সাথে!

সেই কারনেই যন্ত্রনায় জ্ঞান হারিয়েছিলেন তাহলে অরুন বাবু। দাঁতে বোধহয় ন্যানো চিপ থেকে কিছু এফেক্ট হয়েছিল।

“কিন্তু ন্যানো চিপ এতদিন ধরে দাঁতের মধ্যে রয়েছে সেটার ব্যাটারি শেষ হচ্ছিল না কী?” জিজ্ঞেস করলাম আমি।

শারদ্বত বলল, “সেই জন্যেই তো প্রতি সপ্তাহে দাঁতের অ্যাপয়েন্টমেন্ট! চার্জ উনি দিয়ে দিতেন দাঁতের চিকিৎসার নাম করে!”

কি মারাত্মক বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করেছে অরুন সিনহা সেটাই ভাবছিলাম। সব কিছু দুর্দান্ত ভাবে প্ল্যান করেছিল। পারফেক্ট রিভেঞ্জ যাকে বলে। এই কারনেই এতটা কনফিডেন্ট ছিলেন অরুন বাবু। এই জন্যেই উনি ভেবেছিলেন কেউ ওর চুরি ধরতে পারবে না। কিন্তু চতুর্থীর প্রতিমা উদ্বোধন আর শারদ্বত হাজরা দুইএ মিলে ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে গেল ভদ্রলোকের।

শারদ্বত একটু জোর গলায় বলল, “ও হ্যাঁ, অরুন বাবু, আপনার অফিসের বাইরেই পুলিশ রয়েছে। আপনি চিন্তা করবেন না। ওরা দরজা ঢুকে পড়বে যেকোনো মুহুর্তে! ধন্যবাদ!”

ডক্টর চৌধুরী দেখলাম চেয়ারে বসে পড়েছেন। মাথায় হাত। ভদ্রলোকের ডাক্তারী কেরিয়ার টা বোধ হয় শেষ হয়ে গেল! বরুন বাবু বললেন, “শারদ্বত বাবু? কী বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ…

কথা শেষ না করতে দিয়ে শারদ্বত বলল, “আপনার গুগল পে বা ফোন পে আছে?”

বরুন বাবু থতমত খেয়ে বললেন, “আমার? না আমার নেই। ঐন্দ্রিলার আছে!”

শারদ্বত বলল, “তাহলে ধন্যবাদ না দিয়ে আমার টাকাটা দিয়ে দিন। অনেক পুজোর শপিং বাকি আমাদের!”

এই সব মুহুর্ত গুলো আমার জন্য বেশ Awkward! যাই হোক শারদ্বতের সাথে থাকতে গেলে এই মুহুর্ত গুলো জীবনের আর পাঁচটা সাধারন মুহুর্তের মত ভেবে নিতে হবে। শারদ্বতের কথা শেষ হতেই ঐন্দ্রিলা দেবী তাড়াতাড়ি করে ফোন বের করলেন। শারদ্বতকে টাকা পাঠাবেন বলে।

আমরা বেরিয়ে এলাম বাইরে। ঢাকের আওয়াজ টা এবার বেশ জোরে পাচ্ছি।

শারদ্বত কে জিজ্ঞেস করলাম, “সত্যিই শপিং করবে নাকি?”

শারদ্বত বলল, “একী? কেন করব না? পুজো এসে গেল শপিং করব না?”

আমি কিছু বললাম না। ও কত শপিং করবে আমার জানা আছে। একটা এসএমএস এর আওয়াজ হল ওর ফোনে। বুঝলাম টাকা পাঠালেন সিনহা দম্পতি। আমরা এগিয়ে গেলাম ট্যাক্সি ধরতে। অনেক দূর থেকে একটা খুব চেনা গান ভেসে আসছে। বাজলো তোমার আলোর বেনু… গানটা শুনলেই মনে হয় এই তো! পুজো এসে গেছে! মনে অদ্ভুত একটা প্রশান্তি অনুভব করি।

আশ্বিনের শারদ প্রাতে

Arnab Mondal


হিজিবিজি লেখা আর বিরিয়ানি নিয়ে Phd করছি আর আকাশবাণী কলকাতায় নিজের কন্ঠস্বর ভাড়া দিয়ে সংসার চালাচ্ছি।


Post navigation


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: কপি করবেন না দাদা/দিদি