বোধন – পর্ব ১ঃ http://secularweirdo.com/2018/01/09/বোধন-পর্ব-১


রাজর্ষি

আজ সকাল থেকেই খুব টেনশনে আছে রাজর্ষি। সেই জন্যেই কথায় কথায় জয়দের ওপর চেঁচিয়ে ফেলছে। তবে রাজর্ষি জানে অয়ন, জয়, মৈনাক কখনো এইসব কারনে ওর ওপর রাগ করেনা। ছেলেগুলোকেও বলিহারি! একে তো এলো দেরী করে তার ওপর এখন সাইকেল রাখতে গিয়ে ১২ টা বাজিয়ে দেবে মনে হচ্ছে। রাজর্ষি চেঁচিয়ে ডাকল ওদের, “ওরে সাইকেল রাখতে রাখতে কি দশটা বাজিয়ে দিবি?” তারপরেই মন্ডপে ঢুকে কাঁসর আর ঘন্টাটা বাইরে নিয়ে এল। আচ্ছা কাল রাত্রে কি কাজটা ঠিক করেছে ও? এত তাড়াতাড়ি ব্যাপারটার কি কোনো প্রয়োজন ছিল? এই চিন্তাটা খুব তাড়া করছে আজ ওকে। আর কয়েকদিন অপেক্ষা করলে বোধহয় ভাল হত। হঠাৎ ওর পিঠে চাপড় মারল পেছন থেকে কেউ। চমকে তাকিয়ে দেখল অয়ন দাঁত বের করে দাঁড়িয়ে আছে। ও কিছু বলার আগেই অয়ন বলল, “কি গুরু কার কথা ভাবছিলে?” একটু থতমত খেয়েও নিজেকে সামলে নিল রাজর্ষি। বলল, “কার কথা ভাবব? তোদের জ্বালায় কিছু ভাববার উপায় আছে। কত দেরী করিয়ে দিলি বল তো! নে মৈনাক, তুই কাঁসর টা বাজাবি রাস্তায় যেতে যেতে। আর অয়ন ঘণ্টাটা বাজাবে।” অয়ন ওর থেকে ঘন্টাটা নিয়ে বাঁদুরে হাসি হেসে বলল, “হ্যাঁ এই ঘন্টা বাজানোর কাজ আমি দারুন পারি।” রাজর্ষি ওর কথায় কান দিল না। ওর আজ খুব টেনশন হচ্ছে। মজা করার মত অবস্থায় ও আজ একটুও নেই। তারপর হাঁক দিল ও , “নাও চল সবাই এবার।” ঢাকি তার চিরপরিচিত দূর্গা পূজো স্পেশাল বোলটা বাজাতে শুরু করল। সব্বাই এগোতে শুরু করল ঘাটের দিকে। একটা বড় মাঠে ওদের পূজোটা হয়। মাঠ থেকে বেরিয়ে সামনেই রামনগর বাসস্ট্যান্ড। বাসস্ট্যান্ডের পাশ দিয়ে একটা রাস্তা শহরের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। ওটা দিয়ে ১৫ মিনিট হাঁটলেই কংসাবতী নদীর ঘাট। তবে রামনগর কে শহর না বলাই ভাল। শহরের মত অত গাড়ি-ঘোড়া বা আকাশছোঁয়া বাড়ি এখানে নেই। এখানে সন্ধ্যেবেলা একটা ছেলে একটা মেয়ে অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে গল্প করলে গুজব শুরু হয়ে যায়। এখানে ছেলে মেয়ে প্রেম করলে বুড়োরা বলে, “ছেলে-ছোকরাদের যত বাতিক। আমাদের সময় আমরা বিয়ের আগে মেয়েদের সাথে ভাল করে কথাই বলতাম না।” রাজর্ষিদের স্কুলের স্যার পঙ্কজবাবু বলতেন রামনগর এখনো সাবালক হয়নি। সুতরাং রামনগরকে আধা-শহর বলা যেতে পারে কিন্তু শহর কদাচিৎ নয়। নিজের ফোনটার দিকে একবার দেখল রাজর্ষি। নাহ! এখনো রিপ্লাই আসছেনা। আর বোধহয় রিপ্লাই করবেও না ও। বন্ধুত্ত্বটাও বোধহয় আর থাকবেনা। যা করেছে ও কাল। তারপর…। না, আর ভাবতে পারছেনা ও। ওরা মাঠ থেকে বেরিয়ে বড় রাস্তায় ওঠার পর জয় হঠাৎ এসে রাজর্ষির কাঁধে হাত রাখল। রাজর্ষি হাসল একটু।
“কি হয়েছে তোমার?” ওর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল জয়। রাজর্ষি একটু হাসার চেষ্টা করে বলল, “যাব্বাবা! আমার আবার কি হবে?”
“দেখো রাজর্ষিদা আমার কাছে মিথ্যে বোলো না। তোমায় আমি খুব ভাল চিনি। কিছু একটা নিশ্চয় হয়েছে নয়ত এত ভাবুক তো তুমি নয়। সবসময় কি যেন একটা ভাবছ।” রাজর্ষি একবার পাশে হেটে চলা অয়ন আর মৈনাকের দিকে দেখল। ওরা ওর দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। রাজর্ষি বলল, “আরে না রে। সত্যি কিছু হয়নি। পূজোটা নিয়ে একটু টেনশনে আছি আর কি।”
“ঠিক আছে বলতে হবে না ছাড়ো!” বলে ওর কাঁধটা ছেড়ে দিল জয়। তারপর অয়নদের পাশাপাশি হাঁটতে লাগল।
বাসস্ট্যান্ড পেরিয়ে যখন ঘাটে যাবার রাস্তায় ঢুকল ওরা তখনই ফোনটা ভাইব্রেট করল রাজর্ষির। বের করে দেখল রিপ্লাই এসেছে। ও লিখেছে, “I have the same feelings for you. I love u too. Please meet me today at 9 AM. In front of Netaji Subhash Park.” চট করে মোবাইলে সময়টা দেখল রাজর্ষি। সাড়ে ছ’টা বাজে প্রায়। এখন যদি ঘাটে গিয়ে আবার ফিরে এসে বাড়ি যায় ও তাহলে অনেক দেরী হয়ে যাবে। কিন্তু বাড়ি তো একবার ফিরতেই হবে ওকে। ড্রেস চেঞ্জ না করে যাওয়া যাবেনা ওর সাথে দেখা করতে। এক মুহুর্ত ভাবল রাজর্ষি। তারপর জয় কে বলল, “শোন। তোরা যা। আমায় একবার এখুনি বাড়ি যেতে হবে। একটা জরুরী কাজ হঠাৎ মনে পড়ে গেছে। প্লিজ কিছু মনে করিস না।” মৈনাক কাঁসর বাজানো থামিয়ে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রাজর্ষির দিকে। জয় কিছু বলার আগেই অয়ন বলল, “মানে? কেন? পটি পেয়েছে নাকি?”
“না’রে। সেসব কিছু না। পরে বলব সব। এখন আসছি রে। টাটা।”
চলে গেল রাজর্ষি। পেছনে না তাকিয়েও বুঝতে পারল তিন জোড়া চোখ ওর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। দৌড়তে দৌড়তে ক্লাবে এসে সাইকেলটা নিয়ে রওনা দিল বাড়ির দিকে। ওর বাড়িটা একটু দূরে। মাঠের পাশের পিচ দেওয়া রাস্তা দিয়ে কিছুটা গেলে ডানদিকে কাটান যাওয়ার মরাম রাস্তা পড়বে। ওর বাড়ি কাটানে। সাইকেল কাটানের মরাম রাস্তায় গিয়ে পড়তেই ও দেখতে পেল কতগুলো ছেলেকে। এদের একজনকে ও খুব ভাল করে চেনে। শানু। ক্লাস টুয়েলভে একবার এর সাথে ভীষন হাতাহাতি হয়েছিল। কিন্তু ও তো কলকাতায় চলে গিয়েছিল। ও এখন এখানে কি করছে? রাজর্ষি ভাবল পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাবে কিন্তু সেটা আর হল না। শানুও ওকে দেখেছে। দেখেই নিজের ছেলেগুলোর দিকে কিছু একটা ইঙ্গিত করতেই সবাই রাস্তা ঘিরে দাঁড়াল ওরা। শানু এগিয়ে এল ওর দিকে, বলল, “আরে বস, শুনলাম আমি চলে যাওয়ার পর নাকি তুমি এখানকার ডন হয়ে গেছ।”
অন্য সময় হলে হয়ত একটা যুতসই উত্তর দিত রাজর্ষি। কিন্তু আজকের দিনে ওর আর ঝামেলা করতে ইচ্ছে হল না। ও বলল, “শানু। তোর সাথে পরে কথা বলব। আমার আজ একটু তাড়া আছে।“ বলেই সাইকেলে প্যাডেল চাপ দিতে গেল। শানু সাথে সাথে ওর হ্যান্ডেলটা ধরে বলল, “আরে দাঁড়াও দাঁড়াও। ওসব তাড়া-ফাড়া আমায় দেখিও না। তোমার সাথে অনেক হিসাব চুকতা করার আছে।”
“দেখ শানু, অন্যদিন এইসব নিয়ে কথা বলি? আজ সত্যি একটু জরুরী কাজ আছে।”
“ধুর বাল! তোমাদের কাজ মানে তো মেয়েবাজি করা।”
রাজর্ষি কিছু বললনা। দীর্ঘশ্বাস ফেলল একটা।
শানু বলল, “সেদিন তুমি বাগড়া না দিলে ওই জয় শূয়োরের বাচ্চাটাকে আমি কেটে ফেলতাম। শালা আমার গায়ে হাত তুলেছিল স্কুলে সবার সামনে।”
রাজর্ষি এবার বলল, “ঠিক আছে। বলছি তো এসব নিয়ে পরে একদিন কথা হবে। ভাই আমার একটু কাজ আছে জরুরী। আজ যেতে দে।”
“যাবে তো। দাঁড়াও আজ তোমার সাথে হিসাবটা মিটিয়ে নি। ওই জয় হারামজাদাকে পরে দেখব।” তারপর নিজের সঙ্গীদের দিকে তাকিয়ে বলল “ওকে সাইকেল থেকে নামিয়ে হাতগুলো ধর তো।”
রাজর্ষির এবার মাথা গরম হয়ে গেল। দিনের বেলায় মামদোবাজি পেয়েছে নাকি? ও নিজেই সাইকেল থেকে নেমে এগিয়ে যেতে গেল শানুর দিকে। তখনই শানুর সঙ্গীরা এসে হাত দুটো ধরল ওর। শানু এগিয়ে এসে খুব জোরে ওর পেটে ঘুষি মারল। রাজর্ষির মুখটা যন্ত্রনায় কুঁচকে গেল। হঠাৎ সেই সময়ই ওর পকেটের ফোন বেজে উঠল। শানুর এক সঙ্গী ওর পকেট থেকে ফোনটা বের করে দিল শানুর হাতে।
শানু স্ক্রীনটা দেখেই শয়তানি হাসি হাসল। তারপর বলল, “My heart calling! তোমাদের শালা সবসময় মেয়েবাজি।” রাজর্ষি বুঝতে পারল ফোনটা কে করেছে। ও অনুনয়ের সুরে এবার বলল শানুকে, “ফোনটা দে শানু। প্লিজ!” শানু বলল দিচ্ছি। তারপর ফোনটা খুব জোরে ছুড়ে ফেলল। ফোনের পেছনের কভার, ব্যাটারি খুলে ছিটকে গেল রাস্তায়। তারপর সামনে পড়ে থাকা একটা বাঁশ দিয়ে খুব জোরে মারল রাজর্ষির মাথায়। ওর হাত ছেড়ে দিল সবাই। আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না ও। পড়ে গেল রাস্তায়। শানু হাতের বাঁশটা ফেলে দিয়ে বলল, “এটা আমার পেছনে লাগার ফল।” ঠিক এই সময়ই হঠাৎ একটু দূর থেকে কেউ একটা চিৎকার করে উঠল, “এই কি হচ্ছে এখানে? ওকে মারলে কেন তোমরা।” শানুরা আর দাঁড়াল না। চটপট নিজেদের সাইকেলে উঠে চলে গেল অন্যদিকে। রাজর্ষির নড়ার ক্ষমতাটুকুও চলে গেছে। ঝাপসা চোখে দেখল ২ জন দৌড়ে আসছে ওর দিকে। এই রাস্তায় লোক এমনিতেই খুব কম। আর চোখ খুলে রাখতে পারল না ও। যন্ত্রনায় চোখ বন্ধ হয়ে এল ওর।

তমালিকা, সকাল
সপ্তমী

বেশ কিছুদিন ধরেই একটা Identity Crisis এ ভুগছে তমালিকা। ওর যে কী হয়েছে ও নিজেও ঠিক জানে না। কিন্তু মৈনাক এর প্রতি আগের মত আকর্ষন টা আর অনুভব করছে না আর। আগেও কী ঠিক ভালোবাসা ব্যাপার টা হয়েছিল সেভাবে। কেমন অদ্ভুত ভাবেই হয়ে গেল সব টা। সেদিন স্কুলে একটা বড় ঝামেলা হয়েছিল। শানু বলে একটা বখাটে ছেলে অনিন্দিতার সাথে অসভ্য ব্যবহার করায় জয় থাপ্পড় মেরেছিল ওকে। তারপর স্কুলের বাইরে সে কি গোলমাল। শানু আরও ৩-৪ জন সিনিয়র কে নিয়ে চলে আসে জয় কে মারতে। বাড়াবাড়ি রকমের কিছু একটা হত হয়তো কিন্তু হয়নি তার কারন হল রাজর্ষি দা। রাজর্ষি দা এক বছর ড্রপ দিয়েছিল আগে। সেই কারনেই যে সিনিয়র ছেলে গুলো এসেছিল তারা ছিল ওর বন্ধু। তাই সব শেষে শানু ছেলেটারই মুন্ডপাত হয়েছিল।

সেইদিনই মৈনাক প্রথম কথা বলেছিল ওর সাথে। বলেছিল, “শোন না… তুই বাড়ি কিভাবে ফিরবি?”

– হেঁটে যেভাবে ফিরি আমি।

– আজ এরকম ঝামেলা! হেঁটে ফিরতে হবে না। আমার বাড়িও একই দিকে। তুই আমার সাথে সাইকেলে চল।

একটু অবাক হয়েছিল তমালিকা। মৈনাক কে ও চেনে না তা নয়। স্কুলে দেখছে ছোটো থেকে। আর ২ টো টিউশন ও ওরা একসাথে পড়তে যায়। কিন্তু এর আগে কখনো কথা বলে নি ও নিজে থেকে। দু’একবার খেয়াল করেছে মৈনাক ওকে দেখছে কিন্তু সে দেখার মধ্যে আলাদা কিছু পায় নি ও।

ও বলল, “ না না। আমি হেঁটেই যাবো।”

অনিন্দিতা তখন এগিয়ে এসে বলেছিল, “না একা যাস না আজ তুই। মৈনাক এর সাথে যা। কখন কি ঝামেলা হয় বলা যায় না।”

আর না করতে পারে নি তমালিকা। অনিন্দিতা কে ও কখনই না করতে পারে না। সেই দিনই ওর বন্ধুত্বের শুরু মৈনাক এর সাথে। তারপর মাস খানেক পর হঠাৎ ই একদিন প্রোপোজ করে মৈনাক ওকে। কি বলবে বুঝতে না পেরে সময় চেয়ে নিয়েছিল দু’দিন।

জিজ্ঞেস করে অনিন্দিতা কে, “কী করি বল তো?”

অনিন্দিতা বলেছিল, “তুই পছন্দ করিস ওকে?”

– হ্যাঁ করি। কিন্তু সেভাবে না যেভাবে ও চাইছে।

– তো কীভাবে করিস?

– জানিনা। আমি ঠিক এভাবে ভাবিনি কিছু।

– দেখ মৈনাক ছেলেটা কিন্তু ভালো। জয় বলে প্রায়ই।

– হ্যাঁ আমি জানি ছেলেটা সত্যি ভালো। খুব ডেডিকেটেড।

– হুম তাহলে সমস্যা কোথায়?

– নাহ। সমস্যা মানে…

– দেখ ভাবিস না এত। যদি তোর ওকে পছন্দ হয়। হ্যাঁ বলে দে না।

এবারও অনিন্দিতার কথা ফেলতে পারে নি ও। কিন্তু এখন যেন একটা দোটানার মধ্যে রয়েছে ও। সেটা যে ঠিক কী সেটা হয়তো ও নিজেও বোঝে না। কিংবা কিছু সময় বুঝলেও সেটা বাইরে প্রকাশ করতে চায় না। কারন তার মধ্যে একটা নিষিদ্ধ ব্যাপার রয়েছে এবং ও সেটা বোঝে। অনেক দিন ধরেই এসব মনে হচ্ছিল ওর। তাই বলবেনা বলবেনা করেও শেষ অবধি কথাটা বলেই দিল ও মৈনাক কে। জানে ও মৈনাক খুব কষ্ট পাবে। কিন্তু ওর নিজের কথাটাও তো ওকেই ভাবতে হবে। শুধু মৈনাক কেন আর অন্য কোন ছেলের প্রতি ও টান অনুভব করবে কিনা সেটা সম্পর্কে বেশ সন্দিহান ও নিজেই।

নিজের বিছানায় শুয়ে এসবই ভাবছিল তমালিকা। হঠাৎই একটা ফোন এল ওর। এত সকালে ফোন? চশমাটা পরে ফোন টা হাতে তুলে নিল ও। যে নাম টা দেখা যাচ্ছে স্ক্রীনে এটা দেখলেই ওর মন টা ভালো হয়ে যায় সব সময়।

– হ্যালো?

– ঘুম ভাঙালাম?

– আরে না না। শুয়ে শুয়ে গান শুনছিলাম।

– ও আচ্ছা। আমার কিছু ভালো লাগছে না জানিস?

– কেন? কী হল হঠাৎ?

– কিছু না মানে… কেমন যেন একটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে সব।

– হুম। আমি যাবো কী?

– তুই এসেই বা কী করবি?

– তাও ঠিক।

– জানিস জয় কে ফোন করলাম ঘট ডোবাতে ব্যস্ত। শুভদ্বীপ কে ফোন করলাম খুব ভাঙিয়েছি বলে রাগ দেখালো। ভাব একবার।

এবার একটু খারাপ লাগলো তমালিকার। তার মানে ও শেষ অপশন তাহলে?!

– কী রে শুনছিস তুই?

– হ্যাঁ রে শুনছিলাম। সরি। কী করছিস এখন?

– কী আর করব? ভয়ে ভয়ে তোকে ফোন করলাম। ভাবলাম তুইও ঝাড়বি বোধ হয় আমাকে ঘুম ভাঙানোর জন্যে।

– You know I’d never do that.

– হুম জানি রে। এমনিই বললাম।

– এই দাঁড়া তো… একটা নাম্বার থেকে ফোন আসছে এক মিনিট ধর্‌।

অনিন্দিতা কে হোল্ড এ রেখে আর একটা নাম্বার থেকে আসা ফোন ধরল তমালিকা।

– হ্যালো?

– আমি বলছি…

– Um… ও আচ্ছা। এটা আবার কার নাম্বার?

– আমারই আর একটা নাম্বার।

– ওহ আচ্ছা। সেভ নেই আমার। বল।

– বলছি যে, রাজর্ষির একটা অ্যাকসিডেন্ট মত হয়েছে?

– মানে? কি বলছিস রে? কী হয়েছে?

– মাথা ফেটেছে। মেরেছে কেউ। ওর বন্ধুরা বোধ হয় কেউ জানে না। তুই একটু জানিয়ে দে।

– What the hell রে! আর তুই নিজেই তো অনিন্দিতা বা…

– নাহ। আমি না। তুই জানা।

– Okay. কোথায় ও এখন? তুই জানলি কী করে এটা?

– নার্সিং হোম এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। Morning Walk এ বেরিয়েছিলাম। দেখলাম তখনই। তুই জানিয়ে দে বাকিদের।

– আচ্ছা টাটা। আমি জানিয়ে দিচ্ছি। পরে কথা হবে।

– Sure.

তাড়াতাড়ি করে অনিন্দিতার ফোন টা Unhold করল ও। বলল, “আছিস?”

– হ্যাঁ আছি তো। কে ফোন করেছিল? মৈনাক?

– নাহ। মৈনাক না। শোন… রাজর্ষি দা নার্সিং হোম এ।

– What??? কি হয়েছে?

– জানিনা। মাথা ফেটেছে এটুকু জানি। তুই এখুনি জয় বা ওদের কাউকে ফোন কর।

– হ্যাঁ। আমি ফোন করছি। এই রে!! কি করে হল এসব?

– কিছু জানিনা আমি। তুই আগে ফোন কর। পরে কথা হবে।

– হ্যাঁ হ্যাঁ। তাই হবে। রাখছি আমি।

ফোন টা রেখে মৈনাক কে ফোন করবে কিনা একবার ভাবল তমালিকা। সব শেষ করে এখন হঠাৎ ফোন করা ঠিক হবে কী? তারপর মনে হল বন্ধুত্বে বাধা তো নেই। আর এটা একটা Emergency. কাজেই ফোন করাটা দরকার। এসব ভাবতে ভাবতেই মৈনাক এর নাম্বার টা ডায়াল করল ও।

(চলবে)

বোধন – পর্ব ২

Post navigation


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *