– সরুন উঠুন।
– মানে? উঠব কেন?
– Ladies Seat এ বসে আছেন আবার বলছেন উঠবো কেন?
– আরে ২ টো সীট তো খালি আছে। আপনি একটায় বসুন না।
– না না। আমার জানলার ধারে চাই।
– হ্যাঁ তাহলে আমি সরছি। কিন্তু আমাকে উঠতে হবে না তাতেও। আসুন বসুন।
– নাহ। আপনি Ladies Seat এ বসবেন না।
– এতো আচ্ছা Bawal? আপনাকে Seat ছেড়ে দিচ্ছি তো! শুধু শুধু ঝামেলা কেন করছেন? আপনি আপনার মত বসুন না মশাই। -_-
– নাহ। আমি ব্যাগ রাখব। সরুন। উঠুন আপনি।
– Fine. বসুন।
[একটু পর]
– আপনি বসতে পারেন চাইলে।
– নাহ ঠিক আছি আমি। এমনিতেও নামবো আমি এক্ষুনি।
– Oh! Okay. কোথায় নামবেন?
– গড়িয়া।
– ওহ! আমিও নামবো ওখানে।
– Good!
[বাস থেকে নামার পর]
– এই রিক্সা যাবে?
– এই যে ম্যাডাম?
– কি হল? ও! আপনি। হ্যাঁ বলুন।
– ওটা আমার রিক্সা।
– মানে? আপনি চালান?
– নাহ! আমি চালাই না। আমি ফোন করেছি তাই আমায় আনতে এসেছেন। উনি আমার জন্যেই অপেক্ষা করছিলেন।
– ওহ! ঠিক আছে। আপনি যান তাহলে।
– হুম।
– হুম মানে? ইয়ার্কি নাকি?
– Excuse Me?
– রাত হয়ে গেছে। একটাও রিক্সা নেই এদিকে। একটা মেয়ে একা একা বাড়ি যাবে? মায়া দয়া হচ্ছে না আপনার?
– ২ টো ভারী ব্যাগ নিয়ে একটা ছেলে সারাটা বাস দাঁড়িয়ে থাকল সীট খালি থাকা সত্ত্বেও। তখন আপনার মায়া, দয়া কোথায় প্রেম করছিল?
– তার প্রতিশোধ আপনি এভাবে নেবেন?
– আমি কিছুই নেবো না আপনার থেকে আপাতত…
– আমি দেবোও না…
– আমি না নিলে আপনি দেবেন কি করে?
– আবার মেয়েদের সাথে অসভ্যতামো করছেন? দেখবেন চেঁচাবো?
– চেঁচান আপনি। আমি এগোই বরং।
– খবরদার বলে দিলাম। এক পা নড়লে ঠ্যাং ভেঙে দেবো।
– এরকম বন্য আচরন করছেন কেন?
– আপনি আমায় Wild বললেন? আপনার মতলব তো ভালো ঠেকছেনা মশাই।
– এতো মহাজ্বালা। যা ইচ্ছে করুন আপনি। আমি গেলাম।
– আচ্ছা Sorry.
– Say it like you mean it.
– I mean it. I’m sorry. বাসে ওরকম অভদ্রতা করা উচিত হয় নি।
– হুম। ঠিক আছে। Apology Accepted.
– Thanks.
– চলুন তাহলে আমার সাথে। কোথায় যাবেন আপনি?
– আমি মহামায়াতলার ওদিকে যাবো।
– ঠিক আছে উঠুন রিক্সাতে। চলুন। চলো দামুদা।
– এটা কী হল?
– কোথায় কী হল?
– আপনি চোখ মারলেন কেন রিক্সাওয়ালা কে?
– কোথায় চোখ মারলাম?
– আপনি চোখ টিপলেন। আমি স্পষ্ট দেখেছি।
– আপনি ভুল দেখেছেন।
– না না। আমি যাবো না আপনার সাথে। আপনার ভুলভাল মতলব আছে।
– আরে না রে বাবা! উফফ! আমার কোনো খারাপ মতলব নেই।
– না। আমি যাবো না আপনার সাথে।
– Fine. Tata. আমি চললাম।
– Okay.
– আচ্ছা ঠিক আছে। রিক্সায় উঠুন তাহলে বলব কেন চোখ টিপলাম ওকে।
– আগে বলুন।
– নাহ! দেরী হয়ে যাবে। আপনি একটু ভরসা করে উঠুন। আমার কথা শুনে ভালো না লাগলে আপনি নেমে যাবেন। আমি না নামালে চেঁচাবেন আপনি। চলুন এখন।
– [একটু ভেবে] ঠিক আছে।
– হুম। চলো দামুদা।
– বলুন এবার।
– ব্যাপারটা হল এই রিক্সাটা কে আমি ফোন করে ডাকিনি। তবে দামুদা আমার চেনা। তাই আমার নাটক করতে খুব একটা অসুবিধে হয় নি।
– মানে? আপনি মিথ্যে বললেন?
– আমি একবারও আপনায় বলেছি আমি সত্যবাদী যুধিষ্ঠির?
– কেন বললেন মিথ্যে?
– আপনাকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার জন্যে। বাস এ যেটা করলেন তার প্রতিশোধ।
– হুম।
– রাগ করলেন?
– নাহ। ভুল তো আমারও ছিল।
– যাক বুঝেছেন তাহলে!
– হ্যাঁ তবে এর পর কিন্তু আর মিথ্যে বলবেন না কখনও।
– এর পর থেকে মানে? আর দেখা হবে নাকি?
– যদি হয়।
– হুমম। আচ্ছা ঠিক আছে বলবো না।
– অ্যাই! কি হচ্ছে কী? কোথায় হাত দিচ্ছেন?
– আরে আপনার ব্যাগ টা পড়ে যাচ্ছে। তাই ধরছিলাম।
– ও আমি ভাবলাম অন্য কিছু ধরছেন!
– ইস! কী যাতা! -_-
– Sorry.
– হুম এত ভয় পেও না… sorry… মানে ভয় পাবেন না এত। আমি ভুলভাল কিছু করবো না।
– ঠিক আছে অসুবিধে নেই।
– অ্যাঁ! ভুলভাল কিছু করলে অসুবিধে নেই?????
– আরে! না না। মানে… তুমি বলতে পারো। অসুবিধে নেই।
– ওহ! তাই বলুন… থুড়ি… বলো।

সব চরিত্র কাল্পনিক ৫

Post navigation


One thought on “সব চরিত্র কাল্পনিক ৫

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: